ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বিয়েতে অতিথি নিয়ে দুশ্চিন্তা, অতঃপর মানুষের ঢল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২৮:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / 26

ছবি: সংগৃহীত

চীনের ইউনান প্রদেশের ২৪ বছর বয়সী তরুণ সু চেংহংয়ের বিয়ের আয়োজন ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী এক ঘটনা। বিয়েতে আমন্ত্রণ জানানোর মতো আত্মীয়স্বজন না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ১৫ থেকে ২০ জন মানুষকে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে তাঁর সেই আবেদন ছড়িয়ে পড়ার পর প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি মানুষের সাড়া মেলে। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ তাঁর বিয়েতে অংশ নিতে ছুটে আসেন। গত ২৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওর মাধ্যমে সবাইকে আমন্ত্রণ জানান তিনি।

শৈশব থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন সু। মাত্র তিন বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। পাঁচ বছর বয়সে মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান। এরপর দাদি ও বড় ভাইয়ের কাছে তাঁর বেড়ে ওঠা। কিন্তু সাত বছর বয়সে দাদিকেও হারাতে হয় তাঁকে। আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। ছোট বয়স থেকেই দিনমজুরের কাজ শুরু করেন। সেই উপার্জন থেকে ধীরে ধীরে অর্থ সঞ্চয় করে বিয়ের প্রস্তুতি নেন তিনি।

আরও পড়ুন  'জেন-জি'দের আগে বিয়ে নাকি ক্যারিয়ার?
বিয়েতে অতিথি নিয়ে দুশ্চিন্তা, অতঃপর মানুষের ঢল
ছবি: সংগৃহীত

একপর্যায়ে প্রেমিকা লুও চুইয়ের সঙ্গে ৩১ অক্টোবর বিয়ের দিন নির্ধারণ করেন সু। কিন্তু বিয়ের আয়োজনের সময় দেখা দেয় নতুন সমস্যা। আমন্ত্রণ জানানোর মতো আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত মানুষের সংখ্যা ছিল খুবই কম। সব মিলিয়ে দুই থেকে তিনটি টেবিল পূর্ণ করার মতো অতিথিও পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে গত ২৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সু। সেখানে তিনি জানান, বিয়েতে উপস্থিত থাকার মতো আপনজন তাঁর নেই। তাই অপরিচিত ১৫ থেকে ২০ জন মানুষকে অতিথি হিসেবে তাঁর বিয়েতে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সাড়া পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। চীনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অসংখ্য মানুষ তাঁর বিয়েতে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। অনেকে শুধু অতিথি হিসেবেই আসেননি, সঙ্গে নিয়ে এসেছেন নতুন সংসারের জন্য নানা উপহার। কেউ দিয়েছেন গরু ও শূকর, আবার কেউ এনেছেন ফ্রিজ, ওভেনসহ প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী। বর-কনেকে যাতায়াতের সুবিধা দিতে এক শুভাকাঙ্ক্ষী বিলাসবহুল মেবাখ গাড়ির ব্যবস্থাও করেন।

অতিথিদের খাবারের আয়োজন করতে শতাধিক পেশাদার রাঁধুনি বিনা পারিশ্রমিকে রান্নার কাজে যোগ দেন। জানা যায়, ২৯ অক্টোবর একদিনেই প্রায় দুই টন মুরগির মাংস রান্না করা হয়। অতিথিদের জন্য প্রথমে ৩০০টি টেবিলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরে মানুষের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় তা বাড়িয়ে ৪০০টি করা হয়। এরপরও আয়োজন সামলাতে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্টদের।

অতিথির সংখ্যা ও জনসমাগম বেড়ে যাওয়ায় গ্রামের ছোট পরিসরে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন এগিয়ে আসে। তাদের উদ্যোগে বিয়ের অনুষ্ঠান গ্রামের একটি বড় উন্মুক্ত চত্বরে স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলে প্রায় তিন হাজার মানুষের উপস্থিতির কথা জানানো হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সু চেংহংয়ের বিয়েতে শেষ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন।

বিয়েতে অতিথি নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা সু চেংহংয়ের সেই আয়োজন শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় বিশাল এক জনসমাগমে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর একটি আবেগঘন আবেদনকে কেন্দ্র করে মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ঘটনাটিকে বিশেষ আলোচনায় নিয়ে এসেছে। সু চেংহং ও তাঁর স্ত্রী লুও চুইয়ের নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন অনেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিয়েতে অতিথি নিয়ে দুশ্চিন্তা, অতঃপর মানুষের ঢল

আপডেট সময় ১২:২৮:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

চীনের ইউনান প্রদেশের ২৪ বছর বয়সী তরুণ সু চেংহংয়ের বিয়ের আয়োজন ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী এক ঘটনা। বিয়েতে আমন্ত্রণ জানানোর মতো আত্মীয়স্বজন না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ১৫ থেকে ২০ জন মানুষকে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে তাঁর সেই আবেদন ছড়িয়ে পড়ার পর প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি মানুষের সাড়া মেলে। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ তাঁর বিয়েতে অংশ নিতে ছুটে আসেন। গত ২৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওর মাধ্যমে সবাইকে আমন্ত্রণ জানান তিনি।

শৈশব থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন সু। মাত্র তিন বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। পাঁচ বছর বয়সে মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান। এরপর দাদি ও বড় ভাইয়ের কাছে তাঁর বেড়ে ওঠা। কিন্তু সাত বছর বয়সে দাদিকেও হারাতে হয় তাঁকে। আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। ছোট বয়স থেকেই দিনমজুরের কাজ শুরু করেন। সেই উপার্জন থেকে ধীরে ধীরে অর্থ সঞ্চয় করে বিয়ের প্রস্তুতি নেন তিনি।

আরও পড়ুন  চতুর্থ বিয়ে নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন শোয়েব মালিক
বিয়েতে অতিথি নিয়ে দুশ্চিন্তা, অতঃপর মানুষের ঢল
ছবি: সংগৃহীত

একপর্যায়ে প্রেমিকা লুও চুইয়ের সঙ্গে ৩১ অক্টোবর বিয়ের দিন নির্ধারণ করেন সু। কিন্তু বিয়ের আয়োজনের সময় দেখা দেয় নতুন সমস্যা। আমন্ত্রণ জানানোর মতো আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত মানুষের সংখ্যা ছিল খুবই কম। সব মিলিয়ে দুই থেকে তিনটি টেবিল পূর্ণ করার মতো অতিথিও পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে গত ২৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সু। সেখানে তিনি জানান, বিয়েতে উপস্থিত থাকার মতো আপনজন তাঁর নেই। তাই অপরিচিত ১৫ থেকে ২০ জন মানুষকে অতিথি হিসেবে তাঁর বিয়েতে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সাড়া পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। চীনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অসংখ্য মানুষ তাঁর বিয়েতে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। অনেকে শুধু অতিথি হিসেবেই আসেননি, সঙ্গে নিয়ে এসেছেন নতুন সংসারের জন্য নানা উপহার। কেউ দিয়েছেন গরু ও শূকর, আবার কেউ এনেছেন ফ্রিজ, ওভেনসহ প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী। বর-কনেকে যাতায়াতের সুবিধা দিতে এক শুভাকাঙ্ক্ষী বিলাসবহুল মেবাখ গাড়ির ব্যবস্থাও করেন।

অতিথিদের খাবারের আয়োজন করতে শতাধিক পেশাদার রাঁধুনি বিনা পারিশ্রমিকে রান্নার কাজে যোগ দেন। জানা যায়, ২৯ অক্টোবর একদিনেই প্রায় দুই টন মুরগির মাংস রান্না করা হয়। অতিথিদের জন্য প্রথমে ৩০০টি টেবিলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরে মানুষের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় তা বাড়িয়ে ৪০০টি করা হয়। এরপরও আয়োজন সামলাতে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্টদের।

অতিথির সংখ্যা ও জনসমাগম বেড়ে যাওয়ায় গ্রামের ছোট পরিসরে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন এগিয়ে আসে। তাদের উদ্যোগে বিয়ের অনুষ্ঠান গ্রামের একটি বড় উন্মুক্ত চত্বরে স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলে প্রায় তিন হাজার মানুষের উপস্থিতির কথা জানানো হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সু চেংহংয়ের বিয়েতে শেষ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন।

বিয়েতে অতিথি নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা সু চেংহংয়ের সেই আয়োজন শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় বিশাল এক জনসমাগমে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর একটি আবেগঘন আবেদনকে কেন্দ্র করে মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ঘটনাটিকে বিশেষ আলোচনায় নিয়ে এসেছে। সু চেংহং ও তাঁর স্ত্রী লুও চুইয়ের নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন অনেকে।