দুই মাসে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০২:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 19
প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়নে বছরের পর বছর সময়ক্ষেপণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ওয়াসার চলমান প্রকল্পগুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসা ভবনের সম্মেলনকক্ষে সংস্থাটির সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
চলমান প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, দাসেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় পাইপলাইন সংযোগ স্থাপনের প্রকল্প দ্রুত শেষ করতে হবে। পাশাপাশি পূর্বাচলে পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।
ওয়াসার পরিচালনা পর্ষদ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত আইনে সংস্থাগুলোতে বোর্ড গঠনের বিধান থাকলেও সরকার যেকোনো সময় তা গঠন বা ভেঙে দিতে পারে। মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ওয়াসার বোর্ডগুলো জনসেবামূলক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে কিংবা অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আইন সংশোধন করে দেশের সব ওয়াসা থেকে পরিচালনা পর্ষদ তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে জানান তিনি।
ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রমে ধীরগতির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমানে ঢাকা মহানগরীতে প্রতিদিন পানির চাহিদা ও সরবরাহ—উভয়ই ৩১৪ কোটি লিটার। জনসংখ্যা ও আবাসন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু গত সাত মাসে ওয়াসার কাজে উল্লেখযোগ্য নতুন উদ্যোগ কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যায়নি, যা হতাশাজনক।
তিনি বলেন, পানির সংকট তৈরি হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হয়। তাই নগরবাসীর পানির চাহিদা পূরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
পানির উৎসের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার সরবরাহ করা পানির ৭৪ শতাংশ ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে আসে, আর ২৬ শতাংশ আসে উপরিভাগের উৎস থেকে। ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমানোসহ ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাসের লক্ষ্যে ভূগর্ভস্থ উৎসের অংশ ২০ থেকে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য উপরিভাগের পানিনির্ভর প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।
ওয়াসার আর্থিক সক্ষমতা ও আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেবার মান বজায় রেখে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংস্থাটির নিজস্ব আয় বাড়াতে হবে। এতে বিদেশি ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব তহবিল থেকে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পানির মিটার রিডিং ও বিলিং ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।
২০৫০ সালের পানির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা ওয়াসার আধুনিকায়নে পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো বা অর্গানোগ্রাম তৈরির নির্দেশও দেন প্রতিমন্ত্রী। কাঠামোটি প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।
শহরের অবৈধ ও চোরাই পানির সংযোগ শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, এসব কর্মকাণ্ডে প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে সাধারণ মানুষের সেবা ব্যাহত করা যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। এ বিষয়ে সিবিএ ও কর্মচারী সংগঠনগুলোর নেতাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
পানির অপচয় রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। দাঁত ব্রাশ করা বা শেভ করার সময় অপ্রয়োজনে কল খোলা না রাখা এবং সচেতনভাবে পানি ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রচার চালানোর নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দুই মাস পর তিনি আবারও ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন। এর মধ্যে সংস্থাটির কাজে দৃশ্যমান ও মৌলিক পরিবর্তন দেখতে চান তিনি, যাতে নগরবাসীর পানির চাহিদা পূরণে স্বস্তি নিশ্চিত করা যায়।
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী সমিতি, ডিপ্লোমা অ্যাসোসিয়েশন, সিবিএর নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।






















