ঢাকা ০২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

টোকিওতে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই প্রধানমন্ত্রীর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৭:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 24

ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্য, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বৈদেশিক বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই নেতার বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ অঙ্গীকারের কথা জানান তাঁরা।

জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে দুই নেতা শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে বৈঠক শুরু হয়।

আরও পড়ুন  সবুজায়ন ছাড়া টেকসই ভবিষ্যৎ সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্যকে ভিত্তি করে দুই দেশের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে জাপান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি।

তিনি বলেন, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে। দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে বাংলাদেশ গভীরভাবে মূল্যায়ন করে।

তারেক রহমান আরও বলেন, বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বিদেশি বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অংশীদারত্ব জোরদারের অঙ্গীকার করেছেন দুই নেতা।

বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, সফরের অংশ হিসেবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। দুই নেতার আলোচনার ফলাফল ও অগ্রাধিকারগুলো যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কয়েক দশকের বন্ধুত্বের ওপর দাঁড়িয়ে দুই দেশ এখন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

তিনি জাপানের বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান। বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিক লাভজনক ব্যবসার সুযোগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ।

তারেক রহমান বলেন, দুই দেশের সহযোগিতার মাধ্যমে আরও স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অংশীদারত্বের শক্তিশালী ভিত্তিতে রূপান্তর করাই তাঁদের লক্ষ্য। এই সম্পর্ক বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও দীর্ঘস্থায়ী সুফল বয়ে আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, দুই দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের যৌথ ঘোষণাও দিয়েছেন তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচি। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্তকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক ক্রমেই সুদৃঢ় হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ প্রতিষ্ঠার ফলে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাকাইচি।

নিউজটি শেয়ার করুন

টোকিওতে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ১১:২৭:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বাণিজ্য, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বৈদেশিক বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই নেতার বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ অঙ্গীকারের কথা জানান তাঁরা।

জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে দুই নেতা শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে বৈঠক শুরু হয়।

আরও পড়ুন  মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উষ্ণ অভ্যর্থনায় তারেক রহমান, শুরু উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্যকে ভিত্তি করে দুই দেশের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে জাপান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি।

তিনি বলেন, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে। দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে বাংলাদেশ গভীরভাবে মূল্যায়ন করে।

তারেক রহমান আরও বলেন, বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বিদেশি বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অংশীদারত্ব জোরদারের অঙ্গীকার করেছেন দুই নেতা।

বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, সফরের অংশ হিসেবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। দুই নেতার আলোচনার ফলাফল ও অগ্রাধিকারগুলো যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কয়েক দশকের বন্ধুত্বের ওপর দাঁড়িয়ে দুই দেশ এখন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

তিনি জাপানের বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান। বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিক লাভজনক ব্যবসার সুযোগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ।

তারেক রহমান বলেন, দুই দেশের সহযোগিতার মাধ্যমে আরও স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অংশীদারত্বের শক্তিশালী ভিত্তিতে রূপান্তর করাই তাঁদের লক্ষ্য। এই সম্পর্ক বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও দীর্ঘস্থায়ী সুফল বয়ে আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, দুই দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের যৌথ ঘোষণাও দিয়েছেন তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচি। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্তকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক ক্রমেই সুদৃঢ় হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ প্রতিষ্ঠার ফলে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাকাইচি।