কলকাতার মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানি ১৭
- আপডেট সময় ০৩:৫৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 15
কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপূজা মণ্ডপে মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় ভিড়ের চাপে পড়ে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে, যাঁদের কয়েকজনের অবস্থা সংকটজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। উৎসবের আনন্দের মাঝেই মুহূর্তে সেখানে নেমে আসে শোক ও আতঙ্ক।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মণ্ডপে দর্শনার্থীর ঢল ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঠিক তখনই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অনেকে প্রবেশ ও বহির্গমনের পথে জড়ো হলে সেখানে ভিড়ের চাপ বেড়ে যায়। পেছন থেকে ক্রমাগত ধাক্কা আসায় সামনের সারির বহু মানুষ টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যান। তাঁদের ওপর আরও অনেকে হুমড়ি খেয়ে পড়লে বহু মানুষ নিচে চাপা পড়ে যান। পরিস্থিতি এমন জটিল হয়ে ওঠে যে আটকে পড়াদের টেনে বের করাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি তিন বান্ধবীর সঙ্গে মণ্ডপ থেকে বেরোচ্ছিলেন। বাইরে বৃষ্টি থাকায় অনেকেই মণ্ডপের মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ পেছন থেকে জোরালো ধাক্কা আসে, সামনের মানুষজন পড়ে গেলে তাঁদের ওপর অন্যরাও পড়তে থাকেন। তাঁর তিন বান্ধবীও ভিড়ের নিচে চাপা পড়েন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা মণ্ডপের একটি অংশ ভেঙে ভেতরে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালান।
আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আনা মানুষদের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভর্তি থাকা আহতদের অন্তত ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাঁদের শরীরে একাধিক জায়গায় আঘাত রয়েছে। তবে প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের সংখ্যা না জানানো পর্যন্ত চূড়ান্ত হিসাব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
একসঙ্গে বহু আহত ব্যক্তি আসতে থাকায় হাসপাতালে চাপ বাড়ে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়। উৎসবের ছুটির কারণে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক তখন হাসপাতালে ছিলেন না। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের দ্রুত পৌঁছাতে বলা হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তাঁদের অনেকে পৌঁছে গেছেন এবং বাকিরা পথে ছিলেন। খবর পেয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও হাসপাতালে যান। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
তদন্তে যেসব প্রশ্ন গুরুত্ব পেতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে মণ্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে পর্যাপ্ত জায়গা ছিল কি না, ভিড় সামলাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং বৃষ্টির সময় দর্শনার্থীদের নিরাপদে সরানোর পরিকল্পনা ছিল কি না। কলকাতার দুর্গাপূজায় সপ্তমীর সন্ধ্যায় সাধারণত প্রচুর মানুষ প্যান্ডেলে আসেন। তাই ওই সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণ, জরুরি নির্গমনপথ খোলা রাখা এবং বিপদে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা বিশেষভাবে জরুরি। এই ঘটনা উৎসবের ভিড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে।
তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী এবং এর দায় কার, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। নিহতদের পরিচয়, আহতদের চূড়ান্ত সংখ্যা ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
























