ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার পর ক্ষমা চাইলেন সালাউদ্দিন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 20

ছবি: সংগৃহীত

এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেটে পদক জিততে ব্যর্থ হওয়ার পর দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বাংলাদেশ দলের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়ে জাপানে যাওয়া বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ব্রোঞ্জের লড়াইয়েও শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হেরে যায়।

শনিবার নিশিনে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭.৩ ওভারে ১০২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। এর আগে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছেও হারে লিটন দাসের দল।

এশিয়ান গেমসে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা পূর্ণশক্তির দল না পাঠালেও বাংলাদেশ জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন নিয়মিত ক্রিকেটারকে নিয়ে খেলেছে। এরপরও প্রথমবার এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে কোনো পদক ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

ম্যাচ শেষে নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবেও মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল, সেটা পূরণ করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক এবং পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’

এশিয়ান গেমসে যাওয়ার আগে ফাইনালে খেলার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের বোলাররা ভালোই করেছিলেন। মাত্র ২১ রানে শ্রীলঙ্কার চার উইকেট তুলে নেয় তারা। এরপর থারিন্দু রাত্নায়েকের ৩২ বলে ৬৫ রানের ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে দলটি।

বাংলাদেশের হারের পেছনে বোলিংয়ের কয়েকটি খারাপ ওভার এবং পাওয়ার প্লেতে ব্যাটিং বিপর্যয়কে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সালাউদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘এই উইকেটে বোলাররা কয়েক ওভার খুব বাজে বল করেছে। যারা টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট তারাই বেশি রান দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে বেশি উইকেট হারিয়েছি।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মোস্তাফিজুর রহমান ৩ ওভারে ৪৩ রান দেওয়ায় তাঁর বোলিং নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আগের ম্যাচেও ছন্দে ছিলেন না বাঁহাতি এই পেসার। তবে মোস্তাফিজের প্রতি আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন সালাউদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘আসলে মোস্তাফিজ অনেকদিন ধরে ইনজুরিতে ছিল এবং সে আমাদের গত ১০ বছরে সেরা খেলোয়াড়দের একজন। খেলার মধ্যে নতুন কোনো ইন্সট্রাকশন পাঠানো হয় না। বিশেষ করে সে ডেড ওভার স্পেশালিস্ট। ফলে তার ওপর আমাদের ভরসা রাখতেই হবে।’

অধিনায়ক লিটন দাসের ব্যাটিংও ছিল হতাশাজনক। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ২ রান। ব্রোঞ্জের ম্যাচে প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফেরেন তিনি।

লিটনের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি সব সময় বলব তারা দেশের জন্য লড়ে। তারা ফেইল করছে, সেটা নিয়ে আমরা অবশ্যই লজ্জিত। টু বি অনেস্ট আমরা টোটাল টিম হিসেবে ভালো পারফর্ম করিনি।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা দেশের অন্যান্য ডিসিপ্লিনের অ্যাথলেটদের তুলনায় বেশি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে পদক হারানোর বিষয়ে বাড়তি অনুশোচনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের মুখেও পড়েন সালাউদ্দিন।

জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই হতাশ। আমরা এখানে লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলাম কিন্তু ফেইল করেছি, ভালো খেলতে পারিনি।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রান তাড়ায় শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান ও লিটন দাস—তিনজনই কোনো রান করতে পারেননি। মাত্র ৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর আর ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দল।

ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা ও মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে খেলোয়াড়দের চেষ্টায় ঘাটতি ছিল বলে মনে করেন না সালাউদ্দিন।

বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘প্লেয়াররা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমার মনে হয় আমরা গেমপ্ল্যান ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ব্যাটিংয়ে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচটি বের করা সম্ভব হয়নি।’

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার পর ক্ষমা চাইলেন সালাউদ্দিন

আপডেট সময় ০১:১৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেটে পদক জিততে ব্যর্থ হওয়ার পর দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বাংলাদেশ দলের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়ে জাপানে যাওয়া বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ব্রোঞ্জের লড়াইয়েও শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হেরে যায়।

শনিবার নিশিনে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭.৩ ওভারে ১০২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। এর আগে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছেও হারে লিটন দাসের দল।

এশিয়ান গেমসে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা পূর্ণশক্তির দল না পাঠালেও বাংলাদেশ জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন নিয়মিত ক্রিকেটারকে নিয়ে খেলেছে। এরপরও প্রথমবার এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে কোনো পদক ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

ম্যাচ শেষে নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবেও মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল, সেটা পূরণ করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক এবং পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’

এশিয়ান গেমসে যাওয়ার আগে ফাইনালে খেলার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের বোলাররা ভালোই করেছিলেন। মাত্র ২১ রানে শ্রীলঙ্কার চার উইকেট তুলে নেয় তারা। এরপর থারিন্দু রাত্নায়েকের ৩২ বলে ৬৫ রানের ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে দলটি।

বাংলাদেশের হারের পেছনে বোলিংয়ের কয়েকটি খারাপ ওভার এবং পাওয়ার প্লেতে ব্যাটিং বিপর্যয়কে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সালাউদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘এই উইকেটে বোলাররা কয়েক ওভার খুব বাজে বল করেছে। যারা টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট তারাই বেশি রান দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে বেশি উইকেট হারিয়েছি।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মোস্তাফিজুর রহমান ৩ ওভারে ৪৩ রান দেওয়ায় তাঁর বোলিং নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আগের ম্যাচেও ছন্দে ছিলেন না বাঁহাতি এই পেসার। তবে মোস্তাফিজের প্রতি আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন সালাউদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘আসলে মোস্তাফিজ অনেকদিন ধরে ইনজুরিতে ছিল এবং সে আমাদের গত ১০ বছরে সেরা খেলোয়াড়দের একজন। খেলার মধ্যে নতুন কোনো ইন্সট্রাকশন পাঠানো হয় না। বিশেষ করে সে ডেড ওভার স্পেশালিস্ট। ফলে তার ওপর আমাদের ভরসা রাখতেই হবে।’

অধিনায়ক লিটন দাসের ব্যাটিংও ছিল হতাশাজনক। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ২ রান। ব্রোঞ্জের ম্যাচে প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফেরেন তিনি।

লিটনের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি সব সময় বলব তারা দেশের জন্য লড়ে। তারা ফেইল করছে, সেটা নিয়ে আমরা অবশ্যই লজ্জিত। টু বি অনেস্ট আমরা টোটাল টিম হিসেবে ভালো পারফর্ম করিনি।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা দেশের অন্যান্য ডিসিপ্লিনের অ্যাথলেটদের তুলনায় বেশি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে পদক হারানোর বিষয়ে বাড়তি অনুশোচনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের মুখেও পড়েন সালাউদ্দিন।

জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই হতাশ। আমরা এখানে লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলাম কিন্তু ফেইল করেছি, ভালো খেলতে পারিনি।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রান তাড়ায় শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান ও লিটন দাস—তিনজনই কোনো রান করতে পারেননি। মাত্র ৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর আর ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দল।

ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা ও মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে খেলোয়াড়দের চেষ্টায় ঘাটতি ছিল বলে মনে করেন না সালাউদ্দিন।

বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘প্লেয়াররা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমার মনে হয় আমরা গেমপ্ল্যান ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ব্যাটিংয়ে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচটি বের করা সম্ভব হয়নি।’