অন্যকে নসিহত করার আগে নিজের ঘর সামলান: জামায়াতকে তারেক রহমান
- আপডেট সময় ০৯:২৯:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / 45
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের উদ্দেশে নিজেদের কর্মকাণ্ডের দিকে আগে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অন্যদের নসিহত করার আগে নিজেদের দলের লোকজনের বিরুদ্ধে ওঠা নারী নির্যাতনের অভিযোগ সামাল দেওয়া উচিত।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেনীর পরশুরামে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া সেচ প্রকল্প উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, ‘একটি গুপ্ত রাজনৈতিক দলের নেতারা আমাদের নসিহত করছে— আপনারা এটা করেন, আপনারা ওটা করেন। আজকে এখানে হাজারো লক্ষ মানুষের সামনে আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, দয়া করে নিজের ঘরের দিকে আগে তাকান। নিজের ঘরের লোকেরা কিভাবে নারী নির্যাতন করছে, সেটি আগে সামাল দেন, তারপর অন্যকে কিছু বলতে আসেন।’
অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেদের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজেদের সময়ে নারীদের জন্য এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কী করা হয়েছে, তার হিসাবও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর অতীতের নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে ভোটের অধিকার ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলায় দলের অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এখন গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে।
তারেক রহমানের অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল। বিএনপি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ জন্য নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিকভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
কৃষক ও নারীদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষক কার্ড, নারীদের ফ্যামিলি কার্ড এবং মানুষের সুবিধার্থে নদী-খাল খননের উদ্যোগের লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে উপকৃত করা। বিএনপি মানুষের জন্য রাজনীতি করে এবং জনকল্যাণে কাজ করতে চায়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। এতে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল চৌধুরী মিন্টু, স্থানীয় সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনুসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।























