ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি প্রকল্পে একই কাজের পুনরাবৃত্তি বন্ধের তাগিদ মন্ত্রীর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৩৮:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 34

ছবি সংগৃহীত

 

দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, নতুন কোনো প্রকল্প নেওয়ার আগে একই উদ্দেশ্যে অন্য কোনো প্রকল্প চলমান আছে কি না, তা প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) ও দৈনিক যুগান্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  শৃঙ্খলা ভঙ্গের ৪ অপরাধে চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে সরকারি চাকরি আইন সংশোধন

শিল্পমন্ত্রী বলেন, সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রকল্পে একই ধরনের কাজ থাকলে অর্থ ও সম্পদের অপচয় হয়। এতে প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত ফলাফলও পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে আগের প্রকল্পগুলোর সঙ্গে মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব যাচাই করা যেতে পারে। এতে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থায় একই ধরনের প্রকল্প চলমান থাকলে তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এর ফলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রকল্পে একই কাজের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা গেলে এডিপি বাস্তবায়নে বিদ্যমান অনেক সমস্যা কমানো সম্ভব হবে।

বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সব দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পণ্য কম খরচে ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে উৎপাদন করা না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য দেশ সেই জায়গা দখল করবে। তাই দেশীয় শিল্পকে সাময়িক সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, উৎপাদনশীলতা শুধু কারখানায় বেশি পণ্য তৈরির বিষয় নয়, বরং এটি একটি অভ্যাস ও সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে। কম শ্রম ও সম্পদ ব্যবহার করে বেশি পরিমাণে উন্নতমানের পণ্য উৎপাদন করাই এর মূল লক্ষ্য।
আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন কাজেও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকলেও প্রযুক্তির ব্যবহার ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে দক্ষতার পাশাপাশি সঠিক নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও দৃঢ় সংকল্পও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দেশের শিল্প ও অর্থনীতির উন্নয়নে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, দক্ষ জনবল এবং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক এবং এনপিওর মহাপরিচালক মোহা. নায়েব আলী।এ ছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকারি প্রকল্পে একই কাজের পুনরাবৃত্তি বন্ধের তাগিদ মন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৮:৩৮:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

 

দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, নতুন কোনো প্রকল্প নেওয়ার আগে একই উদ্দেশ্যে অন্য কোনো প্রকল্প চলমান আছে কি না, তা প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) ও দৈনিক যুগান্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  সিরিয়ার সরকারের নতুন পদক্ষেপ: দ্রুজ অধ্যুষিত অঞ্চলে প্রবেশ করছে সরকারি বাহিনী

শিল্পমন্ত্রী বলেন, সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রকল্পে একই ধরনের কাজ থাকলে অর্থ ও সম্পদের অপচয় হয়। এতে প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত ফলাফলও পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে আগের প্রকল্পগুলোর সঙ্গে মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব যাচাই করা যেতে পারে। এতে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থায় একই ধরনের প্রকল্প চলমান থাকলে তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এর ফলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রকল্পে একই কাজের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা গেলে এডিপি বাস্তবায়নে বিদ্যমান অনেক সমস্যা কমানো সম্ভব হবে।

বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সব দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পণ্য কম খরচে ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে উৎপাদন করা না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য দেশ সেই জায়গা দখল করবে। তাই দেশীয় শিল্পকে সাময়িক সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, উৎপাদনশীলতা শুধু কারখানায় বেশি পণ্য তৈরির বিষয় নয়, বরং এটি একটি অভ্যাস ও সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে। কম শ্রম ও সম্পদ ব্যবহার করে বেশি পরিমাণে উন্নতমানের পণ্য উৎপাদন করাই এর মূল লক্ষ্য।
আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন কাজেও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকলেও প্রযুক্তির ব্যবহার ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে দক্ষতার পাশাপাশি সঠিক নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও দৃঢ় সংকল্পও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দেশের শিল্প ও অর্থনীতির উন্নয়নে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, দক্ষ জনবল এবং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক এবং এনপিওর মহাপরিচালক মোহা. নায়েব আলী।এ ছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।