এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হারল বাংলাদেশ
- আপডেট সময় ০৩:২৭:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / 41
এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। ১৩ ওভারে ১১১ রানের লক্ষ্য পাওয়া পাকিস্তান ১১.৩ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে। আব্দুল সামাদের ঝোড়ো ৩০ রানের অপরাজিত ইনিংসে ৯ বল হাতে রেখে জয় পায় দলটি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ম্যাচটি শুরু হয়। বৃষ্টির প্রভাবে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ১৩ ওভার নির্ধারণ করা হয়। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান সংগ্রহ করে।
বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ১৭ রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা। ওপেনার তানজিদ হাসান ৭ রান করে আরাফাত মিনহাসের বলে শাহিবজাদা ফারহানের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর অধিনায়ক লিটন দাস উইকেটে এলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ২ রান করে সাইম আইয়ুবের বলে বোল্ড হন তিনি।
আরাফাত মিনহাসের দ্বিতীয় শিকার হন পারভেজ হোসেন ইমন। মাত্র ১ রান করে তার ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে ডিপ স্কয়ার লেগে মোহাম্মদ ওয়াসিমের হাতে ক্যাচ দেন ইমন। সাইফ হাসান কিছুটা ভালো শুরু করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৯ রানে সুফিয়ান মুকিমের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। এতে পঞ্চাশ রান পূর্ণ হওয়ার আগেই বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায়।
পঞ্চম উইকেটে তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেনের জুটি বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়। এই জুটিতেই বড় সংগ্রহের ভিত পায় দল। ২৫ বলে ৪২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে হৃদয় ফিরলে জুটিটি ভাঙে। সুফিয়ান মুকিমের বলে লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে মিড উইকেটে সাইম আইয়ুবের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
এরপর মোসাদ্দেক হোসেনকেও ফেরান মুকিম। ১১ রান করা মোসাদ্দেক কাভারে শাহিবজাদা ফারহানের হাতে ক্যাচ দেন। ফলে ৯৯ রানেই ষষ্ঠ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শেষদিকে শেখ মেহেদী ও রিশাদ হোসেন রান বাড়ানোর চেষ্টা করেন। ইনিংসের শেষ বলে রানআউট হন শেখ মেহেদী।
১১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানও শুরুতে চাপে পড়ে। প্রথম ওভারেই শেখ মেহেদীর বলে তাওহীদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১ রান করে ফেরেন শাহিবজাদা ফারহান।
দ্বিতীয় ওভারেও উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। প্রথম চার বলে দুটি বাউন্ডারি মেরে ভালো শুরু করেছিলেন মাজ সাদাকাত। তবে নাসুম আহমেদের পঞ্চম বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান।
চতুর্থ ওভারে বল হাতে সাফল্য পান মুস্তাফিজুর রহমান। সাইম আইয়ুব পরপর দুই বলে ছক্কা এবং তৃতীয় বলে চার মেরে বড় রানের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। তবে ওভারের শেষ বলে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ১২ বলে ২১ রান করে ফেরেন সাইম।
এরপর সপ্তম ওভারে উসমান খানকে ১৪ রানে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। একপর্যায়ে পাকিস্তানের রান তাড়ায় বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রণও দেখা যায়। তবে দশম ওভারে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়।
ওই ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে পাঁচটি বাউন্ডারি আসে। এক ওভারেই ২৩ রান দেন তিনি। দুই ওভার শেষে মুস্তাফিজের বোলিং ফিগারে যোগ হয় ৪১ রান। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ।
শেষদিকে আব্দুল সামাদের ১৫ বলে অপরাজিত ৩০ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ১১.৩ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। ৬ উইকেটের এই জয়ে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে উঠেছে তারা। আর সেমিফাইনালেই শেষ হয়েছে বাংলাদেশের অভিযান।























