ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
ফেনীবাসীর দাবি পূরণ হবে: পরিবেশমন্ত্রীর অ্যাপলকে ৭০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবদল সংঘর্ষ, ফাঁকা গুলি ও ভাঙচুর ২৫ বোয়িংয়ের পর এবার ১০ এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত সরকারের দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা নিয়ে আসিফ মাহমুদের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ রাষ্ট্রপতির স্ত্রী থেকে কৃষকের স্ত্রী সবাই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন: মীর শাহে আলম সালমান পোস্ট সরালেও জামায়াত আমিরের স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন তথ্য উপদেষ্টার জ্বালানি সংকট নিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করল ইরান আদালত থেকে বেরিয়ে তানজিন তিশা: আরও পাঁচবার আসতে হলেও আসব

২৫ বোয়িংয়ের পর এবার ১০ এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত সরকারের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 26

ছবি সংগৃহীত

 

২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পর এবার ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাস থেকে আরও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী অক্টোবরেই এয়ারবাসের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন  বোয়িংকে টার্গেটে চীন, তীব্র হচ্ছে ওয়াশিংটন-বেইজিং বাণিজ্য দ্বন্দ্ব

মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে গত ৩০ এপ্রিল ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়েছিল। ওই চুক্তিতে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আরও ১১টি বোয়িং কেনার জন্য সম্পূরক চুক্তি করা হয়।

নতুন চুক্তির ১১টি উড়োজাহাজের মধ্যে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ওয়াইড বডি এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স ন্যারো বডি। আগের চুক্তিতে নির্ধারিত একই দরে সম্পূরক চুক্তিটি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এর ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য মোট ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ওয়াইড বডি—দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ এবং ১৩টি বোয়িং ৭৮৭-১০; আর ১০টি ন্যারো বডি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।

এয়ারবাসের কাছ থেকে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড বডি এবং ছয়টি এ৩২১ নিও ন্যারো বডি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান মন্ত্রী। তার ভাষ্য, টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্র উড়োজাহাজ বহর গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উড়োজাহাজের সংখ্যা নির্ধারণের বিষয়ে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, যাত্রী চাহিদা, বিমানের রুট পরিকল্পনা, উড়োজাহাজের উড্ডয়ন পরিসর ও যাত্রী ধারণক্ষমতা, প্রতি ফ্লাইটে সম্ভাব্য যাত্রী এবং সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে ওয়াইড বডি ও ন্যারো বডি উড়োজাহাজের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ওয়াইড বডি উড়োজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যের বেশি চাহিদার রুট এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের গন্তব্যে ব্যবহার করা হবে। আর ন্যারো বডি উড়োজাহাজ দিয়ে আঞ্চলিক ও স্বল্প দূরত্বের রুট পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে বিমানের পুরোনো বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বহর সম্প্রসারণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বহরে বর্তমানে ১৬৭টি উড়োজাহাজ রয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ।

তার দাবি, দেশের মোট বিমান পরিবহন চাহিদার ২০ শতাংশের কিছু বেশি বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পূরণ করতে পারছে। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ বিদেশি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। উড়োজাহাজের স্বল্পতা দূর করতেই সরকার বহর সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগের পেছনে কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাব নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

উড়োজাহাজ কেনার অর্থ পরিশোধের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব আয় এবং উপযুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে উড়োজাহাজ কেনার ব্যয় মেটানো হবে।

তিনি বলেন, উড়োজাহাজগুলো ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে। ফলে মূল্য পরিশোধও পর্যায়ক্রমে করা হবে। বিমানের আর্থিক সক্ষমতা, বিভিন্ন রুট থেকে সম্ভাব্য আয় এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিবেচনা করেই অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে সরাসরি জাতীয় বাজেটের ওপর চাপ পড়বে না বলে জানান তিনি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

২৫ বোয়িংয়ের পর এবার ১০ এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত সরকারের

আপডেট সময় ০৭:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পর এবার ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাস থেকে আরও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী অক্টোবরেই এয়ারবাসের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন  কমেছে উড়োজাহাজ জ্বালানির দাম

মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে গত ৩০ এপ্রিল ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়েছিল। ওই চুক্তিতে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আরও ১১টি বোয়িং কেনার জন্য সম্পূরক চুক্তি করা হয়।

নতুন চুক্তির ১১টি উড়োজাহাজের মধ্যে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ওয়াইড বডি এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স ন্যারো বডি। আগের চুক্তিতে নির্ধারিত একই দরে সম্পূরক চুক্তিটি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এর ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য মোট ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ওয়াইড বডি—দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ এবং ১৩টি বোয়িং ৭৮৭-১০; আর ১০টি ন্যারো বডি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।

এয়ারবাসের কাছ থেকে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড বডি এবং ছয়টি এ৩২১ নিও ন্যারো বডি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান মন্ত্রী। তার ভাষ্য, টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্র উড়োজাহাজ বহর গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উড়োজাহাজের সংখ্যা নির্ধারণের বিষয়ে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, যাত্রী চাহিদা, বিমানের রুট পরিকল্পনা, উড়োজাহাজের উড্ডয়ন পরিসর ও যাত্রী ধারণক্ষমতা, প্রতি ফ্লাইটে সম্ভাব্য যাত্রী এবং সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে ওয়াইড বডি ও ন্যারো বডি উড়োজাহাজের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ওয়াইড বডি উড়োজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যের বেশি চাহিদার রুট এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের গন্তব্যে ব্যবহার করা হবে। আর ন্যারো বডি উড়োজাহাজ দিয়ে আঞ্চলিক ও স্বল্প দূরত্বের রুট পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে বিমানের পুরোনো বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বহর সম্প্রসারণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বহরে বর্তমানে ১৬৭টি উড়োজাহাজ রয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ।

তার দাবি, দেশের মোট বিমান পরিবহন চাহিদার ২০ শতাংশের কিছু বেশি বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পূরণ করতে পারছে। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ বিদেশি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। উড়োজাহাজের স্বল্পতা দূর করতেই সরকার বহর সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগের পেছনে কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাব নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

উড়োজাহাজ কেনার অর্থ পরিশোধের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব আয় এবং উপযুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে উড়োজাহাজ কেনার ব্যয় মেটানো হবে।

তিনি বলেন, উড়োজাহাজগুলো ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে। ফলে মূল্য পরিশোধও পর্যায়ক্রমে করা হবে। বিমানের আর্থিক সক্ষমতা, বিভিন্ন রুট থেকে সম্ভাব্য আয় এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিবেচনা করেই অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে সরাসরি জাতীয় বাজেটের ওপর চাপ পড়বে না বলে জানান তিনি।