কুমিল্লায় লিফটের নিচে রংমিস্ত্রির লাশ, সিসি ক্যামেরাও ছিল বন্ধ
- আপডেট সময় ০১:২১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 30
কুমিল্লা নগরীর হাউজিং এস্টেটের একটি ভবনের ক্যাপসুল লিফটের নিচ থেকে মো. কিরণ মিয়া (৪০) নামে এক রংমিস্ত্রির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভবনের সিসি ক্যামেরা বন্ধ থাকা এবং ঘটনার পর দারোয়ানকে না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর হাউজিং এস্টেটের ১ নম্বর সেকশনের ‘জনতা ব্যাংক’ ভবন থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। কিরণ মিয়া নগরীর দ্বিতীয় মুরাদপুর এলাকার সুন্দর আলীর ছেলে। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার বেলা ১১টার দিকে নাশতা করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন কিরণ। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে রাতে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের সামনে, কেটিসিসির বিপরীত পাশে থাকা ওই ভবনে তাকে খোঁজা শুরু হয়। এ সময় ভবনের লিফটও পরীক্ষা করা হচ্ছিল।
একপর্যায়ে লিফটের মেকানিক রেটজিটেক লিমিটেডের কর্মী রাজু ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্যাপসুল লিফটটি খুলে পরীক্ষা করেন। তখন লিফটের নিচে কিরণ মিয়ার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে ভবনের দারোয়ানকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনার দিন দুপুরে ভবনের মালিকের ছেলে শুভ তার ভাই সায়েমকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরের দিকে রওনা হন। ওই সময় কিরণ মিয়া সেখানে গিয়ে সায়েমের কাছে বেতনের টাকা চাইতে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, তখন তাকে মারধর করা হয় এবং ঘটনার সময় ভবনের সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
রেটজিটেক লিমিটেডের কর্মী রাজু বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর তিনি ভবনটিতে যান। তখন ভবনের লোকজন কিরণ মিয়াকে খুঁজছিলেন। লিফটের ভেতরে কেউ আছেন কি না, তা দেখার চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে লিফট খুললে নিচে লাশ দেখতে পান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল বলেন, লিফটটি জেনারেটরের মাধ্যমে চলছিল। একপর্যায়ে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। লিফট কীভাবে বন্ধ হলো এবং কিরণ মিয়া কীভাবে লিফটের নিচে গেলেন, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা না দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
ভবনের মালিক খোরশেদ আলম বলেন, তারা সারাদিন কিরণকে খুঁজেও পাননি। পরে ধারণা করেন, তিনি ওই ভবনে থাকতে পারেন। এরপর লিফটের নিচে খোঁজ করে তার লাশ পাওয়া যায়।
কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই শরীফ আহমেদ বলেন, ভবনের মালিক ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে তখন অনেক লোকজন জড়ো হয়েছিলেন। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, কিরণ মিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

























