ঢাকা ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা দক্ষিণে ১২ দিনব্যাপী এডিস লার্ভা জরিপ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 33

ছবি : সংগৃহীত

 

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ১২ দিনব্যাপী বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ শুরু হয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত এ জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

আরও পড়ুন  রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্দলীয় প্রার্থীকে চায় দেশের ৬৮% মানুষ: জরিপ

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে জরিপ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ জরিপ চলবে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব এবং প্রজননের প্রধান উৎসগুলো চিহ্নিত করা হবে।

জরিপে ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৭২ জন মাঠকর্মী অংশ নিচ্ছেন। তথ্য সংগ্রহে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘কোবো টুলবক্স’ অ্যাপ্লিকেশন।

জরিপ শেষে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রেটু ইনডেক্স (বিআই), হাউস ইনডেক্স (এইচআই), কনটেইনার ইনডেক্স (সিআই) এবং পিউপা ইনডেক্স (পিআই) নির্ধারণ করা হবে। এসব সূচকের মাধ্যমে কোন এলাকায় এডিস মশার প্রজনন ও ঝুঁকি কতটা, তা নির্ণয় করা হবে।

জরিপের ফল অনুযায়ী বিআই ২০ বা তার বেশি হলে এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ, ১০ থেকে ১৯ হলে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০-এর নিচে হলে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

জরিপে শনাক্ত হটস্পটগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামসহ মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

জরিপের উদ্বোধনী বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বর্তমান জরিপের মাধ্যমে ডিএসসিসি এলাকার পরিস্থিতির একটি নির্ভুল চিত্র পাওয়া যাবে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, প্রাক-বর্ষা জরিপে বাসাবাড়ি ও আঙিনায় জমে থাকা পানিকে এডিস মশার প্রধান প্রজননক্ষেত্র হিসেবে পাওয়া গেছে। তাই ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ কঠিন।

এর আগে পরিচালিত বর্ষাপূর্ব জরিপে ডিএসসিসির ৬৩টি ওয়ার্ডে লার্ভার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। ওই জরিপে ২৭টি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরে জরিপের ফলের ভিত্তিতে এসব এলাকায় ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করে সিটি করপোরেশন।

জরিপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, সচিব মো. মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকা দক্ষিণে ১২ দিনব্যাপী এডিস লার্ভা জরিপ

আপডেট সময় ০৪:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ১২ দিনব্যাপী বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ শুরু হয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত এ জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

আরও পড়ুন  রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্দলীয় প্রার্থীকে চায় দেশের ৬৮% মানুষ: জরিপ

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে জরিপ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ জরিপ চলবে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব এবং প্রজননের প্রধান উৎসগুলো চিহ্নিত করা হবে।

জরিপে ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৭২ জন মাঠকর্মী অংশ নিচ্ছেন। তথ্য সংগ্রহে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘কোবো টুলবক্স’ অ্যাপ্লিকেশন।

জরিপ শেষে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রেটু ইনডেক্স (বিআই), হাউস ইনডেক্স (এইচআই), কনটেইনার ইনডেক্স (সিআই) এবং পিউপা ইনডেক্স (পিআই) নির্ধারণ করা হবে। এসব সূচকের মাধ্যমে কোন এলাকায় এডিস মশার প্রজনন ও ঝুঁকি কতটা, তা নির্ণয় করা হবে।

জরিপের ফল অনুযায়ী বিআই ২০ বা তার বেশি হলে এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ, ১০ থেকে ১৯ হলে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০-এর নিচে হলে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

জরিপে শনাক্ত হটস্পটগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামসহ মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

জরিপের উদ্বোধনী বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বর্তমান জরিপের মাধ্যমে ডিএসসিসি এলাকার পরিস্থিতির একটি নির্ভুল চিত্র পাওয়া যাবে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, প্রাক-বর্ষা জরিপে বাসাবাড়ি ও আঙিনায় জমে থাকা পানিকে এডিস মশার প্রধান প্রজননক্ষেত্র হিসেবে পাওয়া গেছে। তাই ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ কঠিন।

এর আগে পরিচালিত বর্ষাপূর্ব জরিপে ডিএসসিসির ৬৩টি ওয়ার্ডে লার্ভার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। ওই জরিপে ২৭টি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরে জরিপের ফলের ভিত্তিতে এসব এলাকায় ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করে সিটি করপোরেশন।

জরিপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, সচিব মো. মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।