ঢাকা ০৯:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআই ঝুঁকি এড়াতে যোগাযোগ চ্যানেল খুলবে চীন-যুক্তরাষ্ট্র

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:১৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 21

ছবি সংগৃহীত

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিশেষ যোগাযোগ চ্যানেল চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। ওয়াশিংটনে দুই নেতার শীর্ষ বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে ট্রাম্প ও সি চিন পিং প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং ইরানের স্থবির যুদ্ধ পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকের পর দুই নেতা জানান, চলতি বছর চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে তারা আবারও বৈঠকে বসবেন।

আরও পড়ুন  লেবাননের সঙ্গে ১০ কোটি ডলারের যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠক ঘিরে ব্যাপক আনুষ্ঠানিকতা ও জাঁকজমক থাকলেও বড় ধরনের কোনো যুগান্তকারী অগ্রগতি দেখা যায়নি। তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য আলোচনার ক্ষেত্রেও কিছু সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকা বাণিজ্য চুক্তির সময়সীমা আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যাতে দুই দেশ আরও আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে।

সফর শেষে ট্রাম্প বলেন, সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে সি চিন পিং দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সুস্থ প্রতিযোগিতা’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও এর যথাযথ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দুই পরাশক্তির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলার জন্য ট্রাম্পকে তাগিদ দেন সি চিন পিং। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন ও কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়।

বাণিজ্যসংক্রান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে আগামী দুই বছরে চীন অন্তত এক কোটি মেট্রিক টন মার্কিন কয়লা আমদানি করবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তিন হাজার কোটি ডলারের অসংবেদনশীল পণ্যে শুল্ক সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিড়িয়াখানায় উপহার হিসেবে দুটি পান্ডা পাঠানোর কথাও রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সফরে দুই নেতার রাজনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি ছিল আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় ভোজ, সামরিক কুচকাওয়াজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দলিলপত্র দেখার আয়োজন। এক পর্যায়ে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বয়স প্রায় আড়াই শ বছর হলেও চীনের ইতিহাস প্রায় ছয় হাজার বছরের পুরোনো।

দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে আলোচনার পথ খোলা রাখার বিষয়টি উঠে এসেছে। আগামী নভেম্বরে চীনের শেনজেনে এপেকের শীর্ষ সম্মেলন এবং ডিসেম্বরে মিয়ামিতে জি-২০ সম্মেলনে ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের আবারও মুখোমুখি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এআই ঝুঁকি এড়াতে যোগাযোগ চ্যানেল খুলবে চীন-যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ০৯:১৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিশেষ যোগাযোগ চ্যানেল চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। ওয়াশিংটনে দুই নেতার শীর্ষ বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে ট্রাম্প ও সি চিন পিং প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং ইরানের স্থবির যুদ্ধ পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকের পর দুই নেতা জানান, চলতি বছর চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে তারা আবারও বৈঠকে বসবেন।

আরও পড়ুন  কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলার হুমকি প্রত্যাহারের আহ্বান ইরানের

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠক ঘিরে ব্যাপক আনুষ্ঠানিকতা ও জাঁকজমক থাকলেও বড় ধরনের কোনো যুগান্তকারী অগ্রগতি দেখা যায়নি। তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য আলোচনার ক্ষেত্রেও কিছু সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকা বাণিজ্য চুক্তির সময়সীমা আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যাতে দুই দেশ আরও আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে।

সফর শেষে ট্রাম্প বলেন, সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে সি চিন পিং দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সুস্থ প্রতিযোগিতা’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও এর যথাযথ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দুই পরাশক্তির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলার জন্য ট্রাম্পকে তাগিদ দেন সি চিন পিং। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন ও কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়।

বাণিজ্যসংক্রান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে আগামী দুই বছরে চীন অন্তত এক কোটি মেট্রিক টন মার্কিন কয়লা আমদানি করবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তিন হাজার কোটি ডলারের অসংবেদনশীল পণ্যে শুল্ক সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিড়িয়াখানায় উপহার হিসেবে দুটি পান্ডা পাঠানোর কথাও রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সফরে দুই নেতার রাজনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি ছিল আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় ভোজ, সামরিক কুচকাওয়াজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দলিলপত্র দেখার আয়োজন। এক পর্যায়ে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বয়স প্রায় আড়াই শ বছর হলেও চীনের ইতিহাস প্রায় ছয় হাজার বছরের পুরোনো।

দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে আলোচনার পথ খোলা রাখার বিষয়টি উঠে এসেছে। আগামী নভেম্বরে চীনের শেনজেনে এপেকের শীর্ষ সম্মেলন এবং ডিসেম্বরে মিয়ামিতে জি-২০ সম্মেলনে ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের আবারও মুখোমুখি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা