ঢাকা ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান যুদ্ধে বেকায়দায় ট্রাম্প প্রশাসন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪৪:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 33

ছবি সংগৃহীত

 

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এর সমাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার কথা বললেও বাস্তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়েছে।

সরকারি হিসাবে, এরই মধ্যে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।

আরও পড়ুন  রাতভর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কড়াকড়ির কারণে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও। দেশটিতে ডিজেলের দাম বেড়ে রেকর্ড ৬.২৭ ডলার প্রতি গ্যালনে পৌঁছেছে।

যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে শুধু জ্বালানি কেনার পেছনেই মার্কিন নাগরিকদের অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর ফলে পরিবারপ্রতি গড়ে প্রায় ৭৬৩ ডলারের বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। জ্বালানির পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দামও বেড়েছে।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের মজুতও চাপে পড়েছে। পেন্টাগনের হিসাবে, এসব মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ গত আগস্টে রেকর্ড ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব পড়েছে রাজনীতিতেও।

আগামী নভেম্বরে দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার বাড়তি খরচকে ইস্যু করে প্রচারে নেমেছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। জরিপে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনও কমে ৩১ শতাংশে নেমে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমনকি রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন আইনপ্রণেতাও যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো আত্মবিশ্বাসী যে নির্বাচনের পর যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।

এদিকে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জয়ী হলে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে।

তবে বাড়তি খরচ, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধকে ঘিরে ভোটারদের ক্ষোভ আগামী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরান যুদ্ধে বেকায়দায় ট্রাম্প প্রশাসন

আপডেট সময় ১১:৪৪:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এর সমাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার কথা বললেও বাস্তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়েছে।

সরকারি হিসাবে, এরই মধ্যে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।

আরও পড়ুন  ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কড়াকড়ির কারণে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও। দেশটিতে ডিজেলের দাম বেড়ে রেকর্ড ৬.২৭ ডলার প্রতি গ্যালনে পৌঁছেছে।

যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে শুধু জ্বালানি কেনার পেছনেই মার্কিন নাগরিকদের অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর ফলে পরিবারপ্রতি গড়ে প্রায় ৭৬৩ ডলারের বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। জ্বালানির পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দামও বেড়েছে।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের মজুতও চাপে পড়েছে। পেন্টাগনের হিসাবে, এসব মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ গত আগস্টে রেকর্ড ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব পড়েছে রাজনীতিতেও।

আগামী নভেম্বরে দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার বাড়তি খরচকে ইস্যু করে প্রচারে নেমেছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। জরিপে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনও কমে ৩১ শতাংশে নেমে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমনকি রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন আইনপ্রণেতাও যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো আত্মবিশ্বাসী যে নির্বাচনের পর যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।

এদিকে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জয়ী হলে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে।

তবে বাড়তি খরচ, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধকে ঘিরে ভোটারদের ক্ষোভ আগামী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।