বৈঠক শেষে পুতিনের সাঁজোয়া গাড়িতে মোদি
- আপডেট সময় ০৭:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 28
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাঁজোয়া অরুস সেনাত লিমুজিনে একসঙ্গে যাত্রা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পুতিন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে বৈঠকের পর তারা ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ইন্নোপ্রম প্রদর্শনীতে যান।
ব্রিকস সম্মেলনের এক দিন আগে দুই নেতার এই গাড়িতে একসঙ্গে যাত্রার ঘটনা সামনে আসে। গত বছর চীনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের সময়ও পুতিনের সঙ্গে একই গাড়িতে চড়েছিলেন মোদি।
দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে পুতিনের লিমুজিনে করে ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ইন্নোপ্রম প্রদর্শনীতে যান। ইন্নোপ্রম বা ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল এক্সিবিশন একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিভিন্ন দেশের উৎপাদক ও ক্রেতারা একত্রিত হন। সেখানে আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগের জন্য বিটুবি প্ল্যাটফর্মের সুযোগ রয়েছে।
এর আগে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি পুতিনকে প্রাচীন তামিল ধর্মগ্রন্থ ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ ভাষার অনুবাদ উপহার দেন। গ্রন্থটি তামিল কবি ও দার্শনিক তিরুভাল্লুভারের রচনা।
পুতিনকে মোদি বলেন, প্রায় দুই হাজার বছর আগে তিরুভাল্লুভার ‘তিরুক্কুরাল’ লিখেছিলেন। এতে মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। রুশ ভাষায় এর অনুবাদ দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে এবং ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি লেখেন, তিনি পুতিনকে ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ ভাষার অনুবাদ উপহার দিয়েছেন। তিরুভাল্লুভারের জ্ঞান ভাষা ও সীমান্তের বাধা পেরিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছাবে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
রাশিয়া নয়াদিল্লির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার ও সামরিক সরবরাহকারী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সেই নয়াদিল্লির সম্মেলন কেন্দ্রে দুই নেতাকে হাসতে এবং একে অপরের পিঠ চাপড়ে দিতে দেখা যায় সম্প্রচারমাধ্যমের ক্যামেরায়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারত-রাশিয়ার বিশেষ ও বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে পুতিনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই নেতা বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এসব ক্ষেত্র দীর্ঘদিনের ভারত-রাশিয়া অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এ ছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট মতবিনিময় করেন দুই নেতা। আলোচনায় পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের সংঘাতের বিষয়ও ছিল।
প্রধানমন্ত্রী মোদি আবারও বলেন, সংঘাতের সমাধানের পথ হলো সংলাপ ও কূটনীতি। শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে ভারত প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে তিন দিনের সফরে ভারতে থাকা পুতিন শুক্রবার নয়াদিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
এর আগে ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ২৬তম সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হয়েছিল। অর্থাৎ, দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে আবারও বৈঠকে বসলেন তারা।
পুতিন সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারত সফর করেছিলেন।























