সাংবাদিকের লেখায় যেন কারও জীবন, ক্যারিয়ার ও মানসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়: তথ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৩:২১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 36
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ গণমাধ্যম। সরকারের কাজ ভালো না খারাপ, তা তুলে ধরার পাশাপাশি সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে, যাতে কারও জীবন, ক্যারিয়ার ও মানসম্মান অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোলা প্রেসক্লাবের হলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, নীতিমালা করে মানুষকে নৈতিকভাবে ভালো করা সম্ভব নয়। নীতিমালার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে সাংবাদিকদের নিজেদের নৈতিক অবস্থান থেকে বিবেচনা করতে হবে, কোনো অর্ধসত্য, স্বল্পজ্ঞান বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদ যেন কারও সুনাম বা পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে।
তিনি বলেন, কারও অযথা প্রশংসা করাও ঠিক নয়। গণতন্ত্রের একটি স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকদের দায়িত্ব আগের চেয়ে বেড়েছে।
বর্তমানে সাইবার বুলিং বাড়ছে উল্লেখ করে পার্থ বলেন, মানুষ এখন সত্য সংবাদ দেখার পরও সেটি ভুয়া কি না, তা যাচাই করছে। রাজনীতিবিদ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহনশীলতার জায়গা আরও বাড়াতে হবে। সবার হাতে স্মার্টফোন থাকায় গণতন্ত্র ও বাক্স্বাধীনতার নামে গত দুই-তিন বছরে কী ধরনের ভাষা ব্যবহার হচ্ছে, সেটিও দেখা গেছে।
তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতিকে খারাপ বলা যাবে না; বরং এটি একটি বাস্তব ও পরিবর্তিত পরিস্থিতি। মানুষের মানসিকতারও পরিবর্তন হয়েছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তারা যেন সরকারের কাজের সমালোচনা করেন এবং কোথায় কাজ ঠিকভাবে হচ্ছে না, তা তুলে ধরেন। ভোলায় সরকারের দেওয়া বরাদ্দ ও বিভিন্ন উন্নয়নকাজ যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সংবাদ প্রকাশের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সরকারকে সঠিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করা। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের জায়গা থেকে যেন কোনো সংবাদ তৈরি না হয়। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ভোলায় মাদককে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মাদকের কারণে তরুণ সমাজ ও সামাজিক পরিবেশে অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে। মাদক কীভাবে ভোলায় প্রবেশ করছে, তা শনাক্ত করতে প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা যেতে পারে।
মাদক নির্মূলে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি মতবিনিময় সভায় ভোলার সার্বিক উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী।
ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন লিটনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান ও পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার। বক্তব্য দেন ভোলার প্রবীণ সাংবাদিক এম আবু তাহের ও শওকত হোসেন।
এ ছাড়া ভোলা জেলা বিজেপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, ভোলা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ সভায় বক্তব্য দেন।






















