ঢাকা ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অসংক্রামক রোগ ঠেকাতে তামাক নিয়ন্ত্রণে জোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 17

ছবি: সংগৃহীত

দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হয়ে থাকে। এসব রোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাকের ব্যবহার। তাই অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে তামাক নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকের ব্যবহার কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিনের আসক্তি থেকে রক্ষা করতে হবে।

আরও পড়ুন  হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দ্রুত আসছে ভ্যাকসিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে। তবে স্বাস্থ্য উন্নয়নের অন্যতম বড় বাধা তামাক। এ বিষয়ে সরকার সচেতন রয়েছে এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও সংশোধন ও শক্তিশালী করে ২০২৬ সালে পাস করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (এফসিটিসি) আলোকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সেমিনারে বক্তারা জানান, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করেন। তামাকজনিত রোগে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষ অকালে মারা যান, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ৫৪৬ জন।

তারা আরও জানান, তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। তামাক চাষের কারণে বন উজাড়, মাটির উর্বরতা কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের মতো পরিবেশগত ক্ষতিও বাড়ছে।
সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন-২০২৬-এ ই-সিগারেট অন্তর্ভুক্ত না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা। তারা অভিযোগ করেন, তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন কৌশলে তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করছে।

এ সময় ই-সিগারেটসহ নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি এসব পণ্যের প্রচার ও সহজলভ্যতা বন্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন-২০২৬-এর বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের আহ্বান জানান বক্তারা।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহসভাপতি এস এম ড. খলিলুর রহমান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম।

সেমিনারে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

অসংক্রামক রোগ ঠেকাতে তামাক নিয়ন্ত্রণে জোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৭:৩৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হয়ে থাকে। এসব রোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাকের ব্যবহার। তাই অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে তামাক নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকের ব্যবহার কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিনের আসক্তি থেকে রক্ষা করতে হবে।

আরও পড়ুন  চিকিৎসা সরঞ্জাম যাচ্ছে ভাঙারির দোকানে: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে। তবে স্বাস্থ্য উন্নয়নের অন্যতম বড় বাধা তামাক। এ বিষয়ে সরকার সচেতন রয়েছে এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও সংশোধন ও শক্তিশালী করে ২০২৬ সালে পাস করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (এফসিটিসি) আলোকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সেমিনারে বক্তারা জানান, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করেন। তামাকজনিত রোগে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষ অকালে মারা যান, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ৫৪৬ জন।

তারা আরও জানান, তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। তামাক চাষের কারণে বন উজাড়, মাটির উর্বরতা কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের মতো পরিবেশগত ক্ষতিও বাড়ছে।
সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন-২০২৬-এ ই-সিগারেট অন্তর্ভুক্ত না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা। তারা অভিযোগ করেন, তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন কৌশলে তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করছে।

এ সময় ই-সিগারেটসহ নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি এসব পণ্যের প্রচার ও সহজলভ্যতা বন্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন-২০২৬-এর বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের আহ্বান জানান বক্তারা।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহসভাপতি এস এম ড. খলিলুর রহমান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম।

সেমিনারে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।