বন্যার পর নেপালে মরদেহের চাপ, মর্গে জায়গা না পেয়ে ড্রাই আইস ও শ্মশানের প্রস্তুতি
- আপডেট সময় ০৪:০০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 19
ভোটেকোশী নদীর ভয়াবহ বন্যার পর একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নেপালের হাসপাতাল ও মর্গগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মরদেহের পচন রোধে এয়ার কন্ডিশনার, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ও ড্রাই আইস ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রয়োজনে দেবঘাটের বৈদ্যুতিক শ্মশান ব্যবহারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার শুক্রবার, ২৮ আগস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
রসুয়া ও নুয়াকোট এলাকা থেকে ভেসে আসা মরদেহ চিতওয়ান, তানাহুন ও নওয়ালপরাসি পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে। চিতওয়ানের ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী থেকে ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধারের পর ভরতপুরে ২৫০টি মরদেহ ধারণক্ষমতার একটি অস্থায়ী সংরক্ষণকেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে।
এদিকে স্বজনদের শনাক্ত করতে বহু পরিবার হাসপাতালে ভিড় করছেন। তারা নিখোঁজ স্বজনদের ছবি সঙ্গে নিয়ে মরদেহ শনাক্তের চেষ্টা করছেন।
পোখরাতেও মরদেহ সংরক্ষণে সংকট দেখা দিয়েছে। কাস্কি জেলার হাসপাতালগুলোর মোট ধারণক্ষমতা ৮৮টি মরদেহের হলেও তানাহুন, গোর্খা, নওয়ালপরাসি পূর্ব ও ধাদিং থেকে সেখানে ইতোমধ্যে ৯৩টি মরদেহ নেওয়া হয়েছে।
কাস্কি জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা কুমান সিং গুরুং জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোর সক্ষমতার চেয়ে বেশি মরদেহ চলে এসেছে। আরও মরদেহ উদ্ধার হলে সেগুলো পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে পাঠানো হতে পারে।
পোখরা একাডেমি অব হেলথ সায়েন্সে মরদেহগুলো ২ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হচ্ছে। এই তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ ১০ দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত পচন রোধ করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে দীর্ঘমেয়াদে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মরদেহ শনাক্ত করতে পুলিশ ছবি, আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়াও চলছে।
স্থানীয়ভাবে মরদেহ রাখার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় গোর্খা, নওয়ালপরাসি পূর্ব ও ধাদিং থেকেও মরদেহ কাঠমান্ডু ও পোখরায় স্থানান্তর করা হচ্ছে।
যেসব মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হবে না, সেগুলো নির্দিষ্ট স্থানে নম্বর ও প্রয়োজনীয় রেকর্ড সংরক্ষণ করে দাফনের পরিকল্পনা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া






















