চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি আজ
- আপডেট সময় ০২:১২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 29
চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে আসামির উপস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এ রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান তিনটি সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শিয়ে এ রিমান্ড আবেদন করেন।
সিআইডির দেওয়া যুক্তিসমূহ হলো—
প্রথমত, এটি একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর মামলা। ভিকটিমের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে। ডনকে রিমান্ডে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বহু বছরের রহস্য উদঘাটন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, আসামি ডন অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হলে এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের অবস্থান চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করা সহজ হবে।
তৃতীয়ত, ডনের ওপর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কার ইন্ধনে এবং কোন কৌশলে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এর আগে, গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে সিএমএম আদালত ও দায়রা আদালতে আসামিপক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হলেও তা বাতিল করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর পর তাঁর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানানো হলে আদালত অপমৃত্যু ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ একসাথে তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। ওই বছরের ৩ নভেম্বর সিআইডি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে, যা তৎকালীন সিএমএম আদালতে গৃহীত হয়।
তবে সিআইডির ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বাদীপক্ষ রিভিশন মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পরদিন, ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই ও খলনায়ক ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন সালমান শাহর নিউ ইস্কাটনের বাসায় তাঁকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের গলায় দড়ির দাগ এবং শরীরে নীলচে চিহ্ন দেখা গিয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নিহত চিত্রনায়কের লাশ কবর থেকে তুলে সুরতহাল ও পুনরায় ময়নাতদন্তের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। সিলেট অঞ্চলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম পরিচালনার আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এই হত্যা মামলার পরবর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।























