বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হয়ে যে অনুভূতির কথা জানালেন রিজভী
- আপডেট সময় ০৩:১৩:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
- / 24
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবেন কি না—এ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি জানতে চাইলে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী বলেন, ‘আমার মধ্যে দুটি অনুভূতি আছে।আমি যদিও মহাসচিবের যোগ্য নই, এর জন্য আমার আনন্দ হয়। আবার ভয়ও হয় যে আমি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারব কি না। এটা নিয়েও চিন্তা করি।’
তিনি বলেন, ‘আমার উপর অর্পিত দায়িত্বটি যেন যথাযথভাবে পালন করতে পারি, সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। বলতে পারেন এটা একটা অনুভূতি। আমি ওইটা ঠিকমতো পালন করার চেষ্টা করব। সেই ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য কামনা করি।’
এছাড়া দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিতভাবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। প্রতি সপ্তাহে দুইদিন এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগে শুধু শনিবার এসব বৈঠক হলেও এখন বৃহস্পতিবারও তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা জেলা পর্যায়ের সহযোগিতা নিয়ে প্রার্থী বাছাই করবেন। এরপর দলের পক্ষ থেকে একজনকে সমর্থন দেওয়া হবে। একই পদে একাধিক প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার জন্য তৃণমূলের নেতা-কর্মীদেরকে সতর্ক করা হয়েছে।
বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে একজন প্রার্থীকে দলের পক্ষ থেকে সমর্থন করবে—এমন বার্তা তৃণমূল নেতাদের দেওয়া হয়েছে বলে জানান রুহুল কবির রিজভী। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি হিসেবে বিবেচিত হবে।
রিজভী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগামীতে যখনই নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করবে, সেই ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী যাতে তৃণমূলে, বিশেষ করে ইউপি চেয়ারম্যান পদে একজন প্রার্থী হয়, একজনকেই দল সমর্থন করবে। সেখানে যাতে কেউ সেটিকে অতিক্রম করে অথবা সেই নিয়ম বা শৃঙ্খলা ভেঙে একাধিক প্রার্থী না হয়, সেই ব্যাপারে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।’
রিজভী আরও বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অত্যান্ত গুরুত্ব সহকারে বলা হয়েছে। জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের নেতাদেরকেও এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।
রুহুল কবিররিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো কিছুই করা যাবে না।
বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা জনগণের সামনে তুলে ধরার বিষয়েও তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান রিজভী।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব কর্মসূচির বিষয়ে জনগণকে জানানো নেতাকর্মীদের দায়িত্ব।
রিজভী বলেন, দল সুসংগঠিত থাকলে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি জনগণের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে। নেতাকর্মীরা যদি সরকারের কার্যক্রম জনগণকে না জানান, তাহলে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো সাধারণ মানুষের কাছে অজানা থেকেই যাবে।
তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ডের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য ভাতা, এবং খাল খননের মতো কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রিজভী আরও বলেন, এত বড় দায়িত্ব পাওয়া তার জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি দায়িত্বটি সঠিকভাবে পালন করতে পারার বিষয়টিও তার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। আমি এ দায়িত্বের জন্য পুরোপুরি যোগ্য না। তবে দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেটিকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছি এবং দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
























