ভিন্ন সাহাবুদ্দিনকে সাবেক রাষ্ট্রপতি ভেবে ভুয়া খবর, অন্তত ২০ গণমাধ্যমে
- আপডেট সময় ০৭:১২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
- / 1
নামের মিলের কারণে মো. সাহাবুদ্দিন নামে ভিন্ন এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের আদেশকে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সম্পত্তি ক্রোকের খবর হিসেবে প্রকাশ করেছে দেশের অন্তত ২০টি গণমাধ্যম।
বিষয়টি যাচাই করে তথ্যটি ভুয়া বলে জানিয়েছে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার। আদালতের আদেশটি সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে নয়, অন্য এক মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে বলে আদালত সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মো. সাহাবুদ্দিন নামে ওই ব্যক্তির স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধের নির্দেশ দেন ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ ও মহানগর দায়রা জজ আদালত।
রিউমর স্ক্যানারের যাচাই অনুযায়ী, আদালতের নথিতে থাকা মো. সাহাবুদ্দিন রাজধানীর সিদ্ধিকবাজার এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আব্দুর রব এবং স্থায়ী ঠিকানা নোয়াখালীর সদর উপজেলার মাতারবাড়ি গ্রামে। তিনি বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নন।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই মো. সাহাবুদ্দিনের নামে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৪৭ হাজার ৩০৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, এসব সম্পদ হস্তান্তর বা বিক্রি করে তদন্তে বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধের আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
তবে পরবর্তী সময়ে নামের সঙ্গে ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি’ পরিচয় যুক্ত করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব প্রতিবেদনে ১৮টি প্লট ও দুটি ব্যাংক হিসাবের কথাও উল্লেখ করা হয়।
এতে পাঠকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। রিউমর স্ক্যানারের ফ্যাক্টচেক অনুযায়ী, আদালতের আদেশের আওতায় থাকা ব্যক্তি সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নন। অর্থাৎ, একই নামের অন্য একজনের বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের আদেশকে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে দেওয়া আদেশ হিসেবে প্রকাশ করায় ওই প্রতিবেদনগুলো বিভ্রান্তিকর ও তথ্যগতভাবে ভুল।
রিউমর স্ক্যানার এর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে ছড়ানো একাধিক ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও যাচাই করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচারের ১৪৬টি ঘটনা শনাক্ত করেছে তারা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ ধরনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই ঘটনাতেও মূল বিভ্রান্তির কারণ ছিল একই নামের দুই ব্যক্তিকে পৃথকভাবে শনাক্ত না করা। আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই না করেই একজনের বিরুদ্ধে দেওয়া আদেশকে সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দেওয়া আদেশ হিসেবে প্রকাশ করা হয়।



















