পশ্চিমবঙ্গের হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন বাংলাদেশিরা
- আপডেট সময় ০৩:১৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 36
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় একটি হোটেলে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে, নিহতরা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। হোটেলটিতে অবস্থান করা অনেক বাংলাদেশি অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নেন ছাদে। সেই সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কখা জানালেন বাংলাদেশি নাগরিকরা। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
আসাফুল জামাল নামে এক বাংলাদেশি যুবক জানান, রাত প্রায় ২টার কাছাকাছি। তিনি হোটেল কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন। পাশের একটি বিছানায় ঘুমচ্ছিলেন তার ভাই। হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙে।
জানলা খুলতেই শুনতে পান নীচ থেকে সবাই চিৎকার করে বলছেন, ‘‘আগুন লেগেছে।’’ সাথে সাথে ভাইকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করেন। কিন্তু দরজা খুলতেই ধোঁয়া ঢুকে পড়ে ঘরে। ভাইকে নিয়ে কোনওক্রমে ছাদে ওঠেন আসাফুল জামাল।
ফায়ারসার্ভিস আসার আগ পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন আসাফুল জামাল এবং তার ভাই। অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতার নিউ মার্কেটের হোটেল থেকে বেরিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান হোটেলের বোর্ডাররা।
আসাফুল জামাল কলকাতায় এসেছেন ব্যবসার কাজে। সঙ্গে আছেন তার ভাই। মঙ্গলবার খাওয়াদাওয়ার পর ঘুমোতে যান তারা। ঘুমানোর ঘণ্টা খানিক পরেই ঘটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।
আসাফুল জামাল আরও বলেন, নীচে কোনভাবেই নামতে পারছিলাম না। ২০-২৫ জন ছিলাম অনেক কষ্টে ধোঁয়ার মধ্যে সবাই ছাদে উঠি। সবাই চলে যাই পানিরর ট্যাঙ্কের কাছে।
ঢাকার আরেক বাসিন্দা নাজমুল সরকারও জানান একই ভয়াবহতার কথা। হৃদরোগের চিকিৎসা নিতে কলকাতায় আসা। ছিলেন ওই হোটেলের চারতলায়। অগ্নিকাণ্ডের সময় অক্সিজেনের অভাবে শ্বাস নিতে পারছিলেন না। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বার বার তার গলা কেঁপে উঠছিল।
নাজমুল জানায়, হোটেলের কর্মচারীরা বার বার ডেকে বলছিলেন উপরে উঠুন। কিন্তু উপরে ওঠার রাস্তা এতটাই সংকীর্ণ যে একজন করেই উঠতে পারেন। কোথা দিয়ে পালাব, সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। নীচে নামারও কোন পরিস্থিতি ছিল না। ধোঁয়ায় সব কিছু ঢেকে গিয়েছিল। আশপাশে কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না।
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দু’জন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে। জানাগেছে নিহতদের অধিকাংশই বাংলাদেশি নাগরিক।



















