যুক্তরাষ্ট্র শর্ত না মানলে হরমুজ খুলবে না: ইরান
- আপডেট সময় ০৮:৫৩:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / 21
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের সব শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ ইরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধের কৌশল অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে তারা।
রোববার (৯ আগস্ট) আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘শত্রুপক্ষ’ যুক্তরাষ্ট্র তাদের সব শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধের পদক্ষেপ চলবে।
বিশ্বের জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধের মধ্যে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তেহরান এখন প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের পাশাপাশি নির্ধারিত পথ এড়িয়ে চলাচলের চেষ্টা করা জাহাজের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে জলপথটিকে ঘিরে অব্যাহত হামলা ও উত্তেজনার মধ্যে এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়। এরপর মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকে জুনে হওয়া সমঝোতার শর্তে ফিরে গিয়ে আবারও শান্তি আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির চলাচল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্যান্য শর্ত এবং জুনের সমঝোতা লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
আরাঘচি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা করছে না ইরান। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে শুধু বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
এর আগে শনিবার ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানের কয়েকটি শর্ত তুলে ধরেন। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব শর্তের মধ্যে ইরান এবং লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাকে তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ও আগ্রাসন’ বন্ধের দাবি রয়েছে।
এ ছাড়া ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তেহরান।























