ঢাকা ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
গ্রিসের ক্রিট উপকূলে ২০২ অভিবাসী উদ্ধার, বড় অংশ বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হার বাংলাদেশের ঘন ঘন পেট খারাপের নেপথ্যে প্রেশার কুকার? র‍্যাব বিলুপ্ত করে ‘এসআরবি’ গঠনের উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর রোববার, থাকছে একাধিক কর্মসূচি হরমুজে বিকল্প করিডর হতে দেবেনা ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই: দিল্লি অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে নদীতে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন গ্রেপ্তার নাইটক্লাবে হামলার অভিযোগে ইভান টনির বিরুদ্ধে মামলা

গণতন্ত্রের বিকাশে স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 24

ছবি সংগৃহীত

গণতন্ত্রের বিকাশে স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্য নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং একটি সুস্থ ও কার্যকর গণমাধ্যম পরিবেশ নিশ্চিত করা।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের তুলনায় বর্তমানে গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি দাবি করেন, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বক্তারাও সরকারের বর্তমান অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। আলোচকদের পর্যবেক্ষণ ও মতামত সরকারপ্রধানের কাছেও তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম যেমন টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক, তেমনি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক পরিবেশও একটি স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ দুটি বিষয়কে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

গণমাধ্যমকে একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প—দুই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ খাতে বিনিয়োগ, পরিচালনা ও মুনাফার বিষয় যেমন রয়েছে, তেমনি জনস্বার্থ রক্ষা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও রয়েছে। তাই মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা ও সরকারের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ডিজিটাল যুগের পরিবর্তিত বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রচলিত সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এখন গণমাধ্যম ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবও তথ্যপ্রবাহ ও সংবাদ পরিবেশনের ধরন বদলে দিচ্ছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন প্রজন্মের গণমাধ্যম গড়ে তোলার সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না; বরং কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে একটি টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। এতে গণমাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সাংবাদিকদের উন্নত বেতন-কাঠামো, কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে এ পেশার মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য ও অপতথ্যের লড়াইয়ে বস্তুনিষ্ঠ, নির্ভুল ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পাশাপাশি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায়ও গণমাধ্যমকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গণতন্ত্রের বিকাশে স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

আপডেট সময় ০৪:১২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

গণতন্ত্রের বিকাশে স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্য নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং একটি সুস্থ ও কার্যকর গণমাধ্যম পরিবেশ নিশ্চিত করা।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের তুলনায় বর্তমানে গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি দাবি করেন, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বক্তারাও সরকারের বর্তমান অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। আলোচকদের পর্যবেক্ষণ ও মতামত সরকারপ্রধানের কাছেও তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম যেমন টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক, তেমনি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক পরিবেশও একটি স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ দুটি বিষয়কে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

গণমাধ্যমকে একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প—দুই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ খাতে বিনিয়োগ, পরিচালনা ও মুনাফার বিষয় যেমন রয়েছে, তেমনি জনস্বার্থ রক্ষা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও রয়েছে। তাই মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা ও সরকারের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ডিজিটাল যুগের পরিবর্তিত বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রচলিত সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এখন গণমাধ্যম ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবও তথ্যপ্রবাহ ও সংবাদ পরিবেশনের ধরন বদলে দিচ্ছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন প্রজন্মের গণমাধ্যম গড়ে তোলার সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না; বরং কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে একটি টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। এতে গণমাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সাংবাদিকদের উন্নত বেতন-কাঠামো, কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে এ পেশার মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য ও অপতথ্যের লড়াইয়ে বস্তুনিষ্ঠ, নির্ভুল ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পাশাপাশি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায়ও গণমাধ্যমকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।