ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণায় সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর জামায়াতে ইসলামী থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে: ফরহাদ মজহার বেনজীরকে দেশে ফেরাতে উদ্যোগ সম্পর্কে জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেসরকারি উদ্যোগে ঢাকার চারপাশের নৌপথে চলবে ওয়াটার বাস জুলাই সনদ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে: মাহদী আমিন টেকনাফে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ডাকাতি, ছুরিকাঘাতে আহত ১ মোদির বাসভবনে পদযাত্রার ঘোষণা কেজরিওয়ালের গুম-খুনের প্রশ্ন না তুলে অনেক সাংবাদিক তৈলমর্দনে ব্যস্ত ছিলেন— কাদের গনি চৌধুরী নতুন বাংলাদেশ গঠনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যার পর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ

ফিরে দেখা ৩৩ জুলাই

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪৪:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 21

ছবি সংগৃহীত

 

২০২৪ সালের ২ আগস্ট (শুক্রবার), যা আন্দোলনকারীদের ঘোষিত ‘৩৩ জুলাই’ হিসেবে পরিচিত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে নতুন মোড় আসে। দিনব্যাপী বিক্ষোভ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের পর রাতে আন্দোলনের সমন্বয়কেরা ৩ আগস্ট দেশব্যাপী গণমিছিল এবং ৪ আগস্ট থেকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

দিনের শুরুতে রাজধানীর আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান নেন। আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, শিল্পী, লেখক, আইনজীবী, চিকিৎসক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

আরও পড়ুন  ব্রাজিলে ইতিহাস গড়া বিচার

এদিন আলোচনায় আসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়কের একটি ভিডিও বার্তা। ডিবি কার্যালয় থেকে মুক্তির পর নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, নুসরাত তাবাসসুম ও আবু বকর মজুমদার দাবি করেন, ২৮ জুলাই প্রচারিত আন্দোলন প্রত্যাহারের ভিডিও বার্তাটি ডিবির হেফাজতে থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক ধারণ করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারকে না জানিয়ে আটকে রাখা, মানসিক চাপ প্রয়োগ এবং অনশনরত অবস্থায় জোর করে খাবার খাওয়ানোর ঘটনা ঘটেছিল। একই সঙ্গে তারা জানান, ছাত্র-জনতার নিহতদের বিচার এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।

জুমার নামাজের পর রাজধানীর বাইতুল মোকাররম, জাতীয় প্রেস ক্লাব, সায়েন্সল্যাব, উত্তরা, মিরপুর, রামপুরা ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত ‘দ্রোহযাত্রা’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, আইনজীবী, শ্রমজীবী মানুষ ও বিভিন্ন পেশাজীবী অংশ নেন। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ সরকারের পদত্যাগের দাবি জানান।

একই দিনে ‘দৃশ্যমাধ্যম শিল্পীসমাজ’-এর ব্যানারে অভিনয়শিল্পী, পরিচালক ও সংস্কৃতিকর্মীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। ‘পোয়েটস অ্যান্ড রাইটারস অ্যাগেইনস্ট কান্ট্রিওয়াইড অ্যারেস্টস অ্যান্ড অপ্রেশন’ এবং ‘প্রতিবাদ মঞ্চ’-এর ব্যানারে কবি, লেখক, নগর পরিকল্পনাবিদ, শিক্ষক, চিকিৎসক ও অধিকারকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। এছাড়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬২৬ জন শিক্ষক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান।

রাজধানীর বাইরে হবিগঞ্জ, খুলনা, সিলেট, নরসিংদী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও টাঙ্গাইলসহ অন্তত ১০টি জেলায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হবিগঞ্জে তিনজন নিহত এবং শতাধিক আহত হন। খুলনায় এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হন। উত্তরায় সংঘর্ষে পুলিশের রাবার বুলেটে তিনজন আহত হন। বিভিন্ন স্থানের সংঘর্ষে সারা দেশে অন্তত ৩৭০ জন আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়।

একই দিনে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানায়, জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অন্তত ৩২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক সঞ্জয় উইজেসেকেরা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২ আগস্ট দুপুর ১২টার পর প্রায় পাঁচ ঘণ্টার জন্য ফেসবুক, মেসেঞ্জার এবং টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি চলমান চিরুনি অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত থাকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টের প্রথম কয়েক দিনে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দাবি করেন, দাবি পূরণের পরও একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সরকারবিরোধী পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।

দিনের কর্মসূচির পর রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহিন সরকার, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও আব্দুল হান্নান মাসউদ ৩ আগস্ট দেশব্যাপী গণমিছিল এবং ৪ আগস্ট থেকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

ফেসবুক লাইভে আব্দুল হান্নান মাসউদ অসহযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধ না করা, সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখা এবং সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতার আহ্বান জানান।

দিনভর বিক্ষোভ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ, বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, সমন্বয়কদের বক্তব্য এবং রাতের অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণার মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ২ আগস্ট বা ‘৩৩ জুলাই’ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে আলোচিত হয়ে ওঠে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ফিরে দেখা ৩৩ জুলাই

আপডেট সময় ১০:৪৪:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

 

২০২৪ সালের ২ আগস্ট (শুক্রবার), যা আন্দোলনকারীদের ঘোষিত ‘৩৩ জুলাই’ হিসেবে পরিচিত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে নতুন মোড় আসে। দিনব্যাপী বিক্ষোভ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের পর রাতে আন্দোলনের সমন্বয়কেরা ৩ আগস্ট দেশব্যাপী গণমিছিল এবং ৪ আগস্ট থেকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

দিনের শুরুতে রাজধানীর আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান নেন। আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, শিল্পী, লেখক, আইনজীবী, চিকিৎসক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

আরও পড়ুন  দক্ষিণ আফ্রিকার স্বপ্ন ভেঙে শেষ ১৬-এ কানাডা

এদিন আলোচনায় আসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়কের একটি ভিডিও বার্তা। ডিবি কার্যালয় থেকে মুক্তির পর নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, নুসরাত তাবাসসুম ও আবু বকর মজুমদার দাবি করেন, ২৮ জুলাই প্রচারিত আন্দোলন প্রত্যাহারের ভিডিও বার্তাটি ডিবির হেফাজতে থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক ধারণ করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারকে না জানিয়ে আটকে রাখা, মানসিক চাপ প্রয়োগ এবং অনশনরত অবস্থায় জোর করে খাবার খাওয়ানোর ঘটনা ঘটেছিল। একই সঙ্গে তারা জানান, ছাত্র-জনতার নিহতদের বিচার এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।

জুমার নামাজের পর রাজধানীর বাইতুল মোকাররম, জাতীয় প্রেস ক্লাব, সায়েন্সল্যাব, উত্তরা, মিরপুর, রামপুরা ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত ‘দ্রোহযাত্রা’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, আইনজীবী, শ্রমজীবী মানুষ ও বিভিন্ন পেশাজীবী অংশ নেন। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ সরকারের পদত্যাগের দাবি জানান।

একই দিনে ‘দৃশ্যমাধ্যম শিল্পীসমাজ’-এর ব্যানারে অভিনয়শিল্পী, পরিচালক ও সংস্কৃতিকর্মীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। ‘পোয়েটস অ্যান্ড রাইটারস অ্যাগেইনস্ট কান্ট্রিওয়াইড অ্যারেস্টস অ্যান্ড অপ্রেশন’ এবং ‘প্রতিবাদ মঞ্চ’-এর ব্যানারে কবি, লেখক, নগর পরিকল্পনাবিদ, শিক্ষক, চিকিৎসক ও অধিকারকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। এছাড়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬২৬ জন শিক্ষক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান।

রাজধানীর বাইরে হবিগঞ্জ, খুলনা, সিলেট, নরসিংদী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও টাঙ্গাইলসহ অন্তত ১০টি জেলায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হবিগঞ্জে তিনজন নিহত এবং শতাধিক আহত হন। খুলনায় এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হন। উত্তরায় সংঘর্ষে পুলিশের রাবার বুলেটে তিনজন আহত হন। বিভিন্ন স্থানের সংঘর্ষে সারা দেশে অন্তত ৩৭০ জন আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়।

একই দিনে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানায়, জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অন্তত ৩২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক সঞ্জয় উইজেসেকেরা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২ আগস্ট দুপুর ১২টার পর প্রায় পাঁচ ঘণ্টার জন্য ফেসবুক, মেসেঞ্জার এবং টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি চলমান চিরুনি অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত থাকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টের প্রথম কয়েক দিনে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দাবি করেন, দাবি পূরণের পরও একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সরকারবিরোধী পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।

দিনের কর্মসূচির পর রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহিন সরকার, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও আব্দুল হান্নান মাসউদ ৩ আগস্ট দেশব্যাপী গণমিছিল এবং ৪ আগস্ট থেকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

ফেসবুক লাইভে আব্দুল হান্নান মাসউদ অসহযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধ না করা, সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখা এবং সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতার আহ্বান জানান।

দিনভর বিক্ষোভ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ, বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, সমন্বয়কদের বক্তব্য এবং রাতের অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণার মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ২ আগস্ট বা ‘৩৩ জুলাই’ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে আলোচিত হয়ে ওঠে।