ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
কমিউনিটি এনগেজমেন্টের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয় শক্তিশালী করতে হবে: ববি হাজ্জাজ সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে, প্রার্থী ঠিক করবে দল: মির্জা ফখরুল রাশিয়া-ইউক্রেনের হামলায় শিশুসহ নিহত অন্তত ১০ ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির উদ্যোগ সিরিয়ার মোদিকে নিয়ে ট্রল পোস্ট শনাক্ত ও অপসারণে দিল্লি পুলিশের অভিযান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত, তেলের দাম নিম্নমুখী যুক্তরাষ্ট্র হামলা না চালালে, পাল্টা হামলা চালাবে না ইরান দুপুরের মধ্যে দেশের ৮ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত: ইরান দেশের বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক

ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির উদ্যোগ সিরিয়ার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • / 17

ছবি: সংগৃহীত

 

সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা জানিয়েছেন, একাধিক দেশের অংশগ্রহণে ইসরায়েলের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছাতে দামেস্ক সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সোমবার, ২৭ জুলাই প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে একটি বিস্তৃত শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল-শারা বলেন, সম্ভাব্য এই নিরাপত্তা চুক্তি দখলীকৃত গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার অধিকার থেকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার বিষয় নয়। তার ভাষ্য, ১৯৭৩ সাল থেকে ইসরায়েল ওই অঞ্চল দখল করে রেখেছে এবং এ বিষয়ে সিরিয়ার অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

আরও পড়ুন  একসঙ্গে ১০ অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া

তিনি আরও বলেন, সিরিয়া বর্তমানে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলছে। তার মতে, প্রস্তাবিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চলমান সংকট নিরসনের আরও বিস্তৃত ও কার্যকর পথ তৈরি করতে পারে।

বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতায় আসেন আহমেদ আল-শারা। এরপর দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলা ও অনুপ্রবেশের প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।

লেবানন প্রসঙ্গে আল-শারা বলেন, প্রতিবেশী দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা সিরিয়ার নেই। বরং লেবাননের চলমান সংকট মোকাবিলায় দেশটির কর্তৃপক্ষকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, লেবাননের অস্ত্রের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধ বা শান্তি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রের হাতেই থাকা উচিত। এ অবস্থানের প্রতি দামেস্কের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আল-শারা সতর্ক করে বলেন, শুধু নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা দিয়ে লেবাননের সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। তার মতে, দেশটির জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, লেবাননে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে তার তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব সিরিয়ার ওপরও পড়বে। এছাড়া ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত পুরো অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে আল-শারা বলেন, শুধু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেই হবে না; সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকেও বাদ দিতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর সঙ্গে হওয়া অভ্যন্তরীণ চুক্তি বাস্তবায়নে কিছু বিলম্ব হয়েছে। তবে সরকার এখনো সেই চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এটি সফল হবে বলে আশা করছে।

এ ছাড়া ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সিরিয়ার যুদ্ধে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে কাজ করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান প্রেসিডেন্ট আল-শারা। তার ভাষ্য, কমিটিটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কাজ করবে এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ দেশগুলোর সহযোগিতা নেওয়া হবে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সিরিয়ার যুদ্ধ চলাকালে প্রায় এক লাখ মানুষ জোরপূর্বক নিখোঁজ হয়েছেন। অন্যদিকে সিরিয়ার ‘জাতীয় নিখোঁজ ব্যক্তি সংক্রান্ত কমিশন’-এর ধারণা, নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা প্রায় তিন লাখ হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির উদ্যোগ সিরিয়ার

আপডেট সময় ০১:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

 

সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা জানিয়েছেন, একাধিক দেশের অংশগ্রহণে ইসরায়েলের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছাতে দামেস্ক সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সোমবার, ২৭ জুলাই প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে একটি বিস্তৃত শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল-শারা বলেন, সম্ভাব্য এই নিরাপত্তা চুক্তি দখলীকৃত গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার অধিকার থেকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার বিষয় নয়। তার ভাষ্য, ১৯৭৩ সাল থেকে ইসরায়েল ওই অঞ্চল দখল করে রেখেছে এবং এ বিষয়ে সিরিয়ার অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

আরও পড়ুন  যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত ৭, উত্তপ্ত সীমান্তে ফের যুদ্ধের শঙ্কা

তিনি আরও বলেন, সিরিয়া বর্তমানে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলছে। তার মতে, প্রস্তাবিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চলমান সংকট নিরসনের আরও বিস্তৃত ও কার্যকর পথ তৈরি করতে পারে।

বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতায় আসেন আহমেদ আল-শারা। এরপর দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলা ও অনুপ্রবেশের প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।

লেবানন প্রসঙ্গে আল-শারা বলেন, প্রতিবেশী দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা সিরিয়ার নেই। বরং লেবাননের চলমান সংকট মোকাবিলায় দেশটির কর্তৃপক্ষকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, লেবাননের অস্ত্রের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধ বা শান্তি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রের হাতেই থাকা উচিত। এ অবস্থানের প্রতি দামেস্কের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আল-শারা সতর্ক করে বলেন, শুধু নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা দিয়ে লেবাননের সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। তার মতে, দেশটির জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, লেবাননে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে তার তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব সিরিয়ার ওপরও পড়বে। এছাড়া ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত পুরো অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে আল-শারা বলেন, শুধু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেই হবে না; সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকেও বাদ দিতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর সঙ্গে হওয়া অভ্যন্তরীণ চুক্তি বাস্তবায়নে কিছু বিলম্ব হয়েছে। তবে সরকার এখনো সেই চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এটি সফল হবে বলে আশা করছে।

এ ছাড়া ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সিরিয়ার যুদ্ধে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে কাজ করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান প্রেসিডেন্ট আল-শারা। তার ভাষ্য, কমিটিটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কাজ করবে এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ দেশগুলোর সহযোগিতা নেওয়া হবে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সিরিয়ার যুদ্ধ চলাকালে প্রায় এক লাখ মানুষ জোরপূর্বক নিখোঁজ হয়েছেন। অন্যদিকে সিরিয়ার ‘জাতীয় নিখোঁজ ব্যক্তি সংক্রান্ত কমিশন’-এর ধারণা, নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা প্রায় তিন লাখ হতে পারে।