ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
বিচ্ছেদের পর নতুন রূপে শেহতাজ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে নেতানিয়াহুর, খুঁজছেন নতুন মিত্র সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার ববি হাজ্জাজের নিজ সন্তানের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, তথ্যের ঘাটতি ছিল মিডিয়ায় আমাকে টার্গেট করা হয়েছে, বললেন ইশরাক মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাকের, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিলেন পদত্যাগপত্র

কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৪২:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • / 77

ছবি সংগৃহীত

 

লিড: কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দেশটির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, বনভূমির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণে কানাডার অবহেলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে দূষণের ক্ষতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে এবং এ ব্যয় কানাডার পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলেছেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কানাডা তাদের বনাঞ্চলের সঠিক ব্যবস্থাপনা করছে না। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর বাতাস ছড়িয়ে পড়ছে।

আরও পড়ুন  একতরফা বিজয় ঘোষণার পরিকল্পনায় ট্রাম্প

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। তার ভাষ্য, এই দূষণের আর্থিক প্রভাব কানাডার ওপর আরোপিত শুল্কের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত।

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কানাডার শত শত দাবানলের ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে কথা বলে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইবেন। এ ঘটনাকে তিনি ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।

তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বনভূমি আরও শুষ্ক হয়ে পড়ছে, যা দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার থম্পসন রিভার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইক ফ্ল্যানিগান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উষ্ণ, শুষ্ক ও ঝোড়ো আবহাওয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর প্রভাবেই দাবানলের ঘটনা বাড়ছে।

এদিকে কানাডার অন্টারিও প্রদেশে চলতি বছরে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার একর বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি। দাবানলের কারণে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম অন্টারিওর কলিন্স ফার্স্ট নেশন সম্প্রদায়ের পুরো বসতি আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে।

দাবানল মোকাবিলায় অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড ১১টি নতুন বিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যদিকে, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রেও গড়ের তুলনায় বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রায় ৩৭ লাখ একর ভূমি আগুনে পুড়ে গেছে, যা গত ১০ বছরের গড়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

নিউজটি শেয়ার করুন

কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ

আপডেট সময় ০৮:৪২:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

 

লিড: কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দেশটির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, বনভূমির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণে কানাডার অবহেলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে দূষণের ক্ষতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে এবং এ ব্যয় কানাডার পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলেছেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কানাডা তাদের বনাঞ্চলের সঠিক ব্যবস্থাপনা করছে না। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর বাতাস ছড়িয়ে পড়ছে।

আরও পড়ুন  একতরফা বিজয় ঘোষণার পরিকল্পনায় ট্রাম্প

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। তার ভাষ্য, এই দূষণের আর্থিক প্রভাব কানাডার ওপর আরোপিত শুল্কের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত।

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কানাডার শত শত দাবানলের ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে কথা বলে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইবেন। এ ঘটনাকে তিনি ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।

তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বনভূমি আরও শুষ্ক হয়ে পড়ছে, যা দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার থম্পসন রিভার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইক ফ্ল্যানিগান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উষ্ণ, শুষ্ক ও ঝোড়ো আবহাওয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর প্রভাবেই দাবানলের ঘটনা বাড়ছে।

এদিকে কানাডার অন্টারিও প্রদেশে চলতি বছরে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার একর বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি। দাবানলের কারণে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম অন্টারিওর কলিন্স ফার্স্ট নেশন সম্প্রদায়ের পুরো বসতি আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে।

দাবানল মোকাবিলায় অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড ১১টি নতুন বিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যদিকে, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রেও গড়ের তুলনায় বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রায় ৩৭ লাখ একর ভূমি আগুনে পুড়ে গেছে, যা গত ১০ বছরের গড়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।