ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে কি বাড়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি? যা বলছে গবেষণা ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত ৪ হাজার ছাড়াল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের ঢামেককে মানবিক নেতৃত্বের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের আহ্বান জুবাইদা রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে রাজি হননি শেখ মুজিব: স্পিকার কাল প্রকাশ হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল, জানুন দেখার উপায় বস্তাবন্দি স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার: বাবাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে, টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ ‘৫ আগস্ট সেনাবাহিনী নীরব থাকলে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি ছিল’: আব্দুল হক বন্যার পানিতে ভেসে তিন শিশুর মৃত্যু, উদ্ধার মরদেহ

বস্তাবন্দি স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার: বাবাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:২২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / 30

ছবি সংগৃহীত

 

খুলনায় বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। মামলায় গ্রেপ্তার নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেছেন, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে মেয়ের বাকবিতণ্ডা ও শারীরিক সংঘর্ষের ঘটনায় নির্জনার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহত নির্জনা খুলনা সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

আরও পড়ুন  নোয়াখালীতে ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

শনিবার (১১ জুলাই) খুলনা মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কের একটি সাততলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দি অবস্থায় নির্জনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এরপর পুলিশ বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।

পুলিশের ভাষ্য, তদন্তের অংশ হিসেবে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) তিনি স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। খুলনা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল মুহিম জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ কমিশনার জানান, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আরিফা ইয়াসমিন সিমা দাবি করেছেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটনার দিন মেয়ের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষের একপর্যায়ে নির্জনার মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পর মরদেহ অন্য স্থানে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয় বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আরিফা ইয়াসমিন সিমা দাবি করেছেন, নির্জনার একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং সেই পারিবারিক কলহের জেরেই এ ঘটনা ঘটে। তবে এসব তথ্য তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, অভিযুক্ত নির্জনার বাবা আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে খুলনা মহানগর পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। তিনি আরও জানান, নির্জনার বাবা-মা মাদকাসক্ত—এমন তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এম এম শাকিলুজ্জামান, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান, অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মন, সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম এবং খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বস্তাবন্দি স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার: বাবাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান

আপডেট সময় ০৪:২২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

 

খুলনায় বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। মামলায় গ্রেপ্তার নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেছেন, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে মেয়ের বাকবিতণ্ডা ও শারীরিক সংঘর্ষের ঘটনায় নির্জনার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহত নির্জনা খুলনা সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

আরও পড়ুন  গরু লুট করছিল ডাকাত দল, বাধা দেওয়ায় মালিককে গুলি করে হত্যা

শনিবার (১১ জুলাই) খুলনা মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কের একটি সাততলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দি অবস্থায় নির্জনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এরপর পুলিশ বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।

পুলিশের ভাষ্য, তদন্তের অংশ হিসেবে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) তিনি স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। খুলনা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল মুহিম জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ কমিশনার জানান, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আরিফা ইয়াসমিন সিমা দাবি করেছেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটনার দিন মেয়ের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষের একপর্যায়ে নির্জনার মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পর মরদেহ অন্য স্থানে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয় বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আরিফা ইয়াসমিন সিমা দাবি করেছেন, নির্জনার একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং সেই পারিবারিক কলহের জেরেই এ ঘটনা ঘটে। তবে এসব তথ্য তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, অভিযুক্ত নির্জনার বাবা আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে খুলনা মহানগর পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। তিনি আরও জানান, নির্জনার বাবা-মা মাদকাসক্ত—এমন তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এম এম শাকিলুজ্জামান, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান, অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মন, সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম এবং খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।