‘৫ আগস্ট সেনাবাহিনী নীরব থাকলে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি ছিল’: আব্দুল হক
- আপডেট সময় ০৩:৫১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- / 26
রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (রাওয়া) চেয়ারম্যান কর্নেল মোহাম্মদ আব্দুল হক, পিএসসি (অব.) বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী নীরব থাকলে বৃহত্তর সংঘাত বা গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সে সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস ও অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর রাওয়া হেলমেট হলে ‘ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতির স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম (অব.)। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।
কর্নেল আব্দুল হক বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদান সম্পর্কে জাতির সামনে সঠিক তথ্য তুলে ধরা সময়ের দাবি। তার ভাষ্য, এ বাহিনী গঠিত না হলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের নেতৃত্ব দেওয়া কঠিন হতো। তাই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলার নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা থেকেই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে এ বাহিনীর সদস্যরাই ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।
কর্নেল আব্দুল হক আরও বলেন, ২৫ মার্চের কালরাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহ এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। পাশাপাশি চেরিয়াপাড়ায় সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠক, মুক্তিবাহিনী গঠন এবং প্রবাসী সরকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ স্বাধীনতা যুদ্ধকে সুসংগঠিত করতে সহায়তা করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনী শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা, সামরিক শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো সেনাসদস্যদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে কর্নেল আব্দুল হক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেও মন্ত্রী নির্ধারিত সফর পিছিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। একই সঙ্গে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজনে কোনো ত্রুটি থেকে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।





















