স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে রাজি হননি শেখ মুজিব: স্পিকার
- আপডেট সময় ০৬:১৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- / 20
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান ভাঙতে চাননি। এ কারণেই ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানের আগে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি বলে মন্তব্য করেন স্পিকার। একই সঙ্গে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীতে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তাজউদ্দিন আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তবে শেখ মুজিবুর রহমান বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে চাননি এবং পাকিস্তান ভাঙার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা থাকুক, তা তিনি চাননি বলে মন্তব্য করেন স্পিকার। এ কারণেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানের পর সংকটময় পরিস্থিতিতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ গড়ে তোলে। একই সময়ে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করেছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ কোনো একক রাজনৈতিক দলের ছিল না; এটি ছিল সমগ্র জনগণের মুক্তির সংগ্রাম। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইতিহাস বিকৃত করে মুক্তিযুদ্ধের কৃতিত্ব এককভাবে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে অনেক সময় অন্যের অবদান উপেক্ষা করে দলীয় নেতৃত্বকে একক কৃতিত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবদান তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সে সময় পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টটির মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে তারা পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিদ্রোহ করে এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। তার ভাষ্য, সেই প্রতিরোধই পরবর্তী নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি তৈরি করেছিল।
নিজের সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ফুটবলের প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের অনুপ্রেরণায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপাশি তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে রেজিমেন্টের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মকর্তা ও সৈনিকদের পারস্পরিক আস্থা ও ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।





















