মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ঘোষণা, শিক্ষা উপদেষ্টার
- আপডেট সময় ০৪:৫৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
- / 19
মূল্যবোধ, দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতের যে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সব শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। একই সঙ্গে চালু করা হবে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা এবং চতুর্থ শ্রেণি থেকে সংস্কৃতি ও খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপলার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে শিখবে। ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক তৈরি করে প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার বাস্তবায়নে উন্নয়ন অংশীদারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে শিক্ষা খাতের জন্য ৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান ঘোষণায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এ অর্থ শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকারের নীতিকাঠামো ও মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারদের অনুদান ও কারিগরি সহায়তার সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবে রূপ পায়।
তিনি জানান, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও বৈষম্যহীন করতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, সারা দেশে একই ধরনের স্কুল ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ ও জুতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ শিক্ষক। তাই তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, পাঠদান পদ্ধতির আধুনিকায়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বৈষম্য কমানোর বিষয়গুলোকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশীদারিত্বভিত্তিক করতে সরকার কাজ করছে। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মেধা, দক্ষতা ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা হবে, যাতে তারা দেশপ্রেমিক, দক্ষ ও বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

























