ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

১২ বছরেও মেলেনি এমএইচ-৩৭০-এর রহস্য, বাড়ল অনুসন্ধানের সময়

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৬:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / 18

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া ফ্লাইট এমএইচ-৩৭০-এর সন্ধানে পরিচালিত অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। এ লক্ষ্যে গভীর সমুদ্র অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান ওশান ইনফিনিটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

২০১৪ সালের ৮ মার্চ কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজটি মাঝপথে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। বিমানটিতে ২২৭ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। ঘটনাটি আধুনিক বিমান চলাচলের ইতিহাসের অন্যতম বড় রহস্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোক বলেন, যাত্রীদের স্বজনদের কাছে একটি চূড়ান্ত উত্তর পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই অনুসন্ধানের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। নতুন চুক্তির আওতায় ভারত মহাসাগরের দক্ষিণাঞ্চলের অবশিষ্ট ৭ হাজার ৪২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় অনুসন্ধান চালাবে ওশান ইনফিনিটি।

আরও পড়ুন  বিডিআর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতেই হবে: প্রধান উপদেষ্টা

প্রতিষ্ঠানটি এর আগে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এমএইচ-৩৭০-এর সন্ধানে কাজ করেছিল। পরে গত বছর মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে নতুন চুক্তির মাধ্যমে ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় পুনরায় অনুসন্ধান শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী, বিমানের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করতে পারলে প্রতিষ্ঠানটি ৭ কোটি মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক পাবে।

তদন্তে জানা গেছে, উড্ডয়নের প্রায় ৪০ মিনিট পর বিমানটির সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। এরপর ট্রান্সপন্ডার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেটিকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সামরিক রাডারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চল, পেনাং দ্বীপ ও আন্দামান সাগরের দিকে যায়। পরে দক্ষিণমুখী হয়ে রাডারের আওতার বাইরে চলে যায়।

যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকেত বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়, বিমানটি আরও প্রায় ছয় ঘণ্টা আকাশে ছিল এবং জ্বালানি শেষ হয়ে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়। তবে তদন্তকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানের গতিপথ পরিবর্তনের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।

এখন পর্যন্ত আফ্রিকার উপকূল এবং ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন দ্বীপ থেকে ৩০টির বেশি সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র তিনটি ডানার অংশ নিশ্চিতভাবে এমএইচ-৩৭০-এর বলে শনাক্ত হয়েছে। দীর্ঘ এক যুগ পার হলেও বিমানটির প্রকৃত অবস্থান এবং নিখোঁজ হওয়ার কারণ এখনও রহস্যাবৃত রয়েছে।

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

১২ বছরেও মেলেনি এমএইচ-৩৭০-এর রহস্য, বাড়ল অনুসন্ধানের সময়

আপডেট সময় ০৭:৪৬:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া ফ্লাইট এমএইচ-৩৭০-এর সন্ধানে পরিচালিত অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। এ লক্ষ্যে গভীর সমুদ্র অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান ওশান ইনফিনিটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

২০১৪ সালের ৮ মার্চ কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজটি মাঝপথে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। বিমানটিতে ২২৭ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। ঘটনাটি আধুনিক বিমান চলাচলের ইতিহাসের অন্যতম বড় রহস্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোক বলেন, যাত্রীদের স্বজনদের কাছে একটি চূড়ান্ত উত্তর পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই অনুসন্ধানের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। নতুন চুক্তির আওতায় ভারত মহাসাগরের দক্ষিণাঞ্চলের অবশিষ্ট ৭ হাজার ৪২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় অনুসন্ধান চালাবে ওশান ইনফিনিটি।

আরও পড়ুন  ওমানে প্রাইভেটকারের ভেতর চার বাংলাদেশি ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু

প্রতিষ্ঠানটি এর আগে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এমএইচ-৩৭০-এর সন্ধানে কাজ করেছিল। পরে গত বছর মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে নতুন চুক্তির মাধ্যমে ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় পুনরায় অনুসন্ধান শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী, বিমানের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করতে পারলে প্রতিষ্ঠানটি ৭ কোটি মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক পাবে।

তদন্তে জানা গেছে, উড্ডয়নের প্রায় ৪০ মিনিট পর বিমানটির সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। এরপর ট্রান্সপন্ডার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেটিকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সামরিক রাডারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চল, পেনাং দ্বীপ ও আন্দামান সাগরের দিকে যায়। পরে দক্ষিণমুখী হয়ে রাডারের আওতার বাইরে চলে যায়।

যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকেত বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়, বিমানটি আরও প্রায় ছয় ঘণ্টা আকাশে ছিল এবং জ্বালানি শেষ হয়ে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়। তবে তদন্তকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানের গতিপথ পরিবর্তনের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।

এখন পর্যন্ত আফ্রিকার উপকূল এবং ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন দ্বীপ থেকে ৩০টির বেশি সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র তিনটি ডানার অংশ নিশ্চিতভাবে এমএইচ-৩৭০-এর বলে শনাক্ত হয়েছে। দীর্ঘ এক যুগ পার হলেও বিমানটির প্রকৃত অবস্থান এবং নিখোঁজ হওয়ার কারণ এখনও রহস্যাবৃত রয়েছে।