ঢাকা ০৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
ছাত্রদলের পুস্তিকা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করলেন রিজভী সাংবাদিকের লেখায় যেন কারও জীবন, ক্যারিয়ার ও মানসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়: তথ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হবে দুই সপ্তাহের মধ্যে: প্রতিমন্ত্রী অমিত জন্মের ১০০ বছরে উত্তম কুমার, দুই বাংলার দর্শকের ভালোবাসায় অমর মহানায়ক বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে হবে, তারিখ ঘোষণা ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ তাবলিগ জামাতের মাওলানা এহসানুল হক আর নেই বৃষ্টির ফোঁটা থেকেই বিদ্যুৎ! নতুন সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকরা

ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা: ট্রাম্প

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৫৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • / 70

ছবি: সংগৃহীত

ইরান নতুন চুক্তির শর্ত মেনে না চললে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২২ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে বা প্রত্যাশিত আচরণ না করে, তাহলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যা প্রয়োজন হবে, যুক্তরাষ্ট্র তা করবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে দুই দেশের এ সমঝোতাকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ইরানের ফোর্ডো স্থাপনা ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্রই সক্ষম: মন্তব্য ট্রাম্পের

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এ সময় ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা বিভিন্ন স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পায় এবং সংঘাতের প্রভাব অঞ্চল ছাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়ে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের জন্য অবমুক্ত করা অর্থ মূলত খাদ্য ক্রয়ের কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, এই অর্থের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতের জন্যও ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে।

তিনি বলেন, ইরানের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্যের প্রয়োজন রয়েছে এবং দেশটি নিজস্ব উৎপাদনের মাধ্যমে সেই চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করতে পারছে না। ফলে খাদ্য আমদানিতে ব্যয় হওয়া অর্থের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের কাছেই ফিরে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনাও ঘটেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে হাজারো মানুষের নিহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপত্তার কারণে নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। তবে চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখা দুই দেশের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা: ট্রাম্প

আপডেট সময় ০১:৫৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

ইরান নতুন চুক্তির শর্ত মেনে না চললে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২২ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে বা প্রত্যাশিত আচরণ না করে, তাহলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যা প্রয়োজন হবে, যুক্তরাষ্ট্র তা করবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে দুই দেশের এ সমঝোতাকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন রুট ঘোষণা; অমান্য করলেই ধ্বংসের হুঁশিয়ারি

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এ সময় ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা বিভিন্ন স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পায় এবং সংঘাতের প্রভাব অঞ্চল ছাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়ে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের জন্য অবমুক্ত করা অর্থ মূলত খাদ্য ক্রয়ের কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, এই অর্থের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতের জন্যও ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে।

তিনি বলেন, ইরানের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্যের প্রয়োজন রয়েছে এবং দেশটি নিজস্ব উৎপাদনের মাধ্যমে সেই চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করতে পারছে না। ফলে খাদ্য আমদানিতে ব্যয় হওয়া অর্থের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের কাছেই ফিরে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনাও ঘটেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে হাজারো মানুষের নিহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপত্তার কারণে নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। তবে চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখা দুই দেশের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।