তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানাতেই দেশে ফেরা: জাহেদ উর রহমান
- আপডেট সময় ০৫:৩৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
- / 26
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, সম্প্রচার ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানানো প্রয়োজন মনে করেই তিনি ভারত সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে এ ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি মনে করেন না।
মঙ্গলবার, ১৬ জুন সচিবালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে তার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে যেভাবে এসেছে, ঘটনাটি মূলত সেভাবেই ঘটেছে। তিনি জানান, সেখানে তিনি ব্যক্তিগত পরিচয়ে নয়, বরং সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছিলেন। তাই বিষয়টিকে ব্যক্তিগত নয়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে দেখেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে তাকে প্রবেশের অনুমতি দিতে আগ্রহ দেখালেও তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি। কারণ, তার কাছে মনে হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া প্রয়োজন ছিল যে বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদের প্রতি প্রয়োজনীয় সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।
সোমবার ও মঙ্গলবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল জাহেদ উর রহমানের। এ উদ্দেশ্যে তিনি রোববার সন্ধ্যায় দিল্লি পৌঁছান। তবে বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার পর তিনি সফর বাতিল করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
পরদিন কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফেরেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কূটনৈতিক পাসপোর্ট না থাকার বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এখনো কূটনৈতিক পাসপোর্ট গ্রহণ না করলেও তার পাসপোর্টে সার্ক ভিসা স্টিকার ছিল, যা সংশ্লিষ্ট সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর হওয়ার কথা। এ ঘটনায় পাসপোর্ট কোনো কারণ ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতের কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে জাহেদ উর রহমান বলেন, সেখানে ঘটনার পেছনে অন্য কারণের কথাও উঠে এসেছে। তবে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি।
দিল্লি বিমানবন্দরের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, তার সঙ্গে থাকা অন্য সদস্যরা স্বাভাবিকভাবে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করলেও তার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও যাচাই-বাছাই চলতে থাকে। পুরো সময় বাংলাদেশ হাইকমিশনার তার সঙ্গে ছিলেন এবং বিষয়টির সমাধানে চেষ্টা চালিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপদেষ্টা বলেন, তাকে কোনো কক্ষে আটকে রাখা হয়নি কিংবা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। তবে দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখাকে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধির প্রতি প্রত্যাশিত আচরণ হিসেবে দেখেননি।
ভবিষ্যতে ভারত সফরের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, যথাযথ আমন্ত্রণ ও প্রয়োজন হলে তিনি অবশ্যই আবার ভারত সফর করবেন। তার মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে যৌক্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের অর্থ জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া নয়। সরকারের নীতি হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, আর সেই নীতির ভিত্তিতেই প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালিত হবে।
দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনাটি দুই দেশের সম্পর্কে নতুন কোনো উত্তেজনা তৈরি করবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন না যে এ ঘটনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে চাপ সৃষ্টি করা উচিত। বিষয়টি ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তারা গ্রহণ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে ভারত থেকে বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ প্রসঙ্গে আগের বক্তব্যেরও ব্যাখ্যা দেন তিনি। জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট। সরকার কোনো দেশের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক চায় না, তবে জাতীয় স্বার্থ, আত্মমর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসও করবে না।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।





















