ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফেরানো হবে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:০৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 16

ছবি: সংগৃহীত

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলছে।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয় যে, দুর্নীতির একটি মামলায় বেনজীর আহমেদকে আটক করা হয়েছে। তাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। ওই নোটিশের ভিত্তিতে দুবাইয়ের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তার অবস্থান শনাক্ত করে এবং শনিবার (১৩ জুন) স্থানীয় সময় রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মামলাটি দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তার সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তদন্তে তার মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলেও বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকার তথ্য মিলেছে। ব্যয় বাদ দেওয়ার পর নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। এ হিসাবে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকা বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সম্পদের প্রকৃত উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মামলাটিতে গত ৩ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে ৮ মার্চ অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফেরানো হবে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:০৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলছে।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয় যে, দুর্নীতির একটি মামলায় বেনজীর আহমেদকে আটক করা হয়েছে। তাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। ওই নোটিশের ভিত্তিতে দুবাইয়ের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তার অবস্থান শনাক্ত করে এবং শনিবার (১৩ জুন) স্থানীয় সময় রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মামলাটি দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তার সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তদন্তে তার মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলেও বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকার তথ্য মিলেছে। ব্যয় বাদ দেওয়ার পর নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। এ হিসাবে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকা বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সম্পদের প্রকৃত উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মামলাটিতে গত ৩ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে ৮ মার্চ অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।