ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছেলেকে ‘কান ধরে ওঠবস’ করিয়ে মায়ের লাশ ফেরত!

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:২৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 9

ছবি: সংগৃহীত

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনায় দিনভর উত্তেজনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মৃত নারীর মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব, স্বজনদের বিক্ষোভ এবং মৃতের ছেলেকে ক্ষমা চাওয়ার অংশ হিসেবে ‘কান ধরে ওঠবস’ করানোর অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শনিবার, ১৩ জুন দুপুর সোয়া ২টার দিকে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার নূর নাহার বেগমকে শনিবার ভোর ৪টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর তিনি মারা যান।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশে প্রবেশের সময় আটক দুই নারীকে ফেরত পাঠালো বিএসএফ

পরিবারের দাবি, অক্সিজেন না দেওয়ার কারণে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার ছেলে রিফাত হোসেন। একপর্যায়ে অক্সিজেন সরবরাহের বিষয়কে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিব হাসান এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক নাইম বকশী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। তাদের কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সেবা প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে।

পরে মরদেহ মর্গে রাখা হয়। একই সময়ে রোগীর স্বজনরা মরদেহ দ্রুত হস্তান্তরের দাবিতে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

মৃতের ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, তার মা ভোরে মারা গেলেও দীর্ঘ সময় তারা মরদেহ দেখতে পারেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার অনুরোধ ও ক্ষমা প্রার্থনা করা হলেও মরদেহ বুঝে পেতে বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা মরদেহ আটকে রেখে বিভিন্ন শর্ত ও দাবির কারণে হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিলম্বিত করেন। তাদের দাবি, পরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মৃতের ছেলে রিফাত হোসেন হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে উপস্থিত হয়ে সবার সামনে কান ধরে ওঠবস করেন। এরপর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক ব্যবহারকারী মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া ও ঘটনার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করেন।

তবে মৃতের ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগের বিষয়ে কোনো ইন্টার্ন চিকিৎসকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা দেখা গেছে। চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনাকে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অমানবিক বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে মরদেহটি মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। তবে মৃতের ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ছেলেকে ‘কান ধরে ওঠবস’ করিয়ে মায়ের লাশ ফেরত!

আপডেট সময় ০২:২৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনায় দিনভর উত্তেজনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মৃত নারীর মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব, স্বজনদের বিক্ষোভ এবং মৃতের ছেলেকে ক্ষমা চাওয়ার অংশ হিসেবে ‘কান ধরে ওঠবস’ করানোর অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শনিবার, ১৩ জুন দুপুর সোয়া ২টার দিকে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার নূর নাহার বেগমকে শনিবার ভোর ৪টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর তিনি মারা যান।

আরও পড়ুন  সোয়া চার লাখ পোস্টাল ব্যালট দেশে এলো

পরিবারের দাবি, অক্সিজেন না দেওয়ার কারণে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার ছেলে রিফাত হোসেন। একপর্যায়ে অক্সিজেন সরবরাহের বিষয়কে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিব হাসান এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক নাইম বকশী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। তাদের কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সেবা প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে।

পরে মরদেহ মর্গে রাখা হয়। একই সময়ে রোগীর স্বজনরা মরদেহ দ্রুত হস্তান্তরের দাবিতে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

মৃতের ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, তার মা ভোরে মারা গেলেও দীর্ঘ সময় তারা মরদেহ দেখতে পারেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার অনুরোধ ও ক্ষমা প্রার্থনা করা হলেও মরদেহ বুঝে পেতে বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা মরদেহ আটকে রেখে বিভিন্ন শর্ত ও দাবির কারণে হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিলম্বিত করেন। তাদের দাবি, পরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মৃতের ছেলে রিফাত হোসেন হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে উপস্থিত হয়ে সবার সামনে কান ধরে ওঠবস করেন। এরপর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক ব্যবহারকারী মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া ও ঘটনার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করেন।

তবে মৃতের ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগের বিষয়ে কোনো ইন্টার্ন চিকিৎসকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা দেখা গেছে। চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনাকে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অমানবিক বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে মরদেহটি মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। তবে মৃতের ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।