আজই শান্তিচুক্তি হতে পারে বলে আশা ট্রাম্পের, সতর্ক অবস্থানে ইরান
- আপডেট সময় ০৯:৫৩:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
- / 20
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেছেন, দুই দেশের মধ্যে আজই একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। তবে ইরান জানিয়েছে, আলোচনা ইতিবাচক হলেও তাৎক্ষণিকভাবে চুক্তি সইয়ের বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই।
শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, চুক্তি বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও জানিয়েছেন, উভয় দেশ একটি শান্তি কাঠামোর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তার মতে, চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন এবং পরবর্তী ধাপে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তবে ইরানের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সতর্ক। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আলোচনা আশাব্যঞ্জক পর্যায়ে থাকলেও রোববারই কোনো চুক্তি সই হবে—এমন সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তিনি ইঙ্গিত দেন, আগামী কয়েক দিনে আরও অগ্রগতি হতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তান, কাতার, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার মাধ্যমে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, সরাসরি আলোচনায় অংশ না নিলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সীমিত করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে তেল আবিব।
তবে ইসরায়েলের কিছু নীতিনির্ধারক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে ইরান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুবিধা পেয়ে যেতে পারে, অথচ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা নাও মিলতে পারে।
সম্ভাব্য চুক্তির প্রধান বিষয়গুলো
যদিও প্রস্তাবিত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া এখনো প্রকাশ করা হয়নি, বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সমঝোতা কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে। পাশাপাশি ইরানের কিছু বন্দরকে ঘিরে আরোপিত নৌ-নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া ইরানের ওপর আরোপিত কয়েকটি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং জব্দ থাকা কিছু সম্পদ মুক্ত করার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক সমঝোতায় পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বরং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে পৃথক আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এ ইস্যুতেই সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা অন্য দেশে সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু তেহরান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাবে না কিংবা ধ্বংস করবে না। বরং নিজস্ব তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ করে সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানোর পথ অনুসরণ করবে।
ফলে শান্তিচুক্তি নিয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে মতানৈক্য বিদ্যমান। এসব ইস্যুর সমাধানের ওপরই নির্ভর করছে সম্ভাব্য চুক্তির ভবিষ্যৎ।


























