নাটোর সদর হাসপাতালে রোগীর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ, তিন কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় ০৪:২৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
- / 21
নাটোর সদর হাসপাতালের এক নারী রোগীর স্বজনকে ধর্ষণের অভিযোগে তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বামীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে নাটোর সদর থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অসুস্থ দুই বছর বয়সী শিশুকন্যাকে চিকিৎসার জন্য ৫ জুন নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ জুন সকালে হাসপাতালের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী শিশুর ওষুধ দেওয়ার কথা বলে তার মাকে ডেকে নিয়ে যান।
এজাহারে আরও উল্লেখ আছে, হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় নিয়ে যাওয়ার পর অপর দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সহযোগিতায় ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন অমিত (২৩), অনিল (২৩) ও প্রাঙ্গণ (২৪)। তাদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর স্বামী লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ সেটিকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ৮ জুন সকালে শিশুটির বাবা হাসপাতালে এসে স্ত্রী ও সন্তানকে নির্ধারিত স্থানে না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন। পরে হাসপাতালের একটি কক্ষে তাদের খুঁজে পান। সেখানে স্ত্রী তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, একপর্যায়ে শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে নার্সরা তার মাকে খুঁজতে থাকেন। তাকে না পেয়ে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে আনসার সদস্যরা ষষ্ঠ তলা থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্য মো. সালাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি জানার পর তারা অনুসন্ধান শুরু করেন এবং পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজে পান। এরপর তাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. মোন্নাফ হোসেন জানান, ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্তদের বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, প্রধান অভিযুক্ত তাকে ধর্ষণ করেছেন এবং অপর দুজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছেন। তার দাবি, পরবর্তীতে তারাও একই ধরনের অপকর্মের চেষ্টা করেছিল। তবে হাসপাতালের লোকজন চলে আসায় তারা সেখান থেকে সরে যায়।
ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. আরশেদ আলী বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালের ভেতরে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনসুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নাটোরের পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক বলেন, বিষয়টি তার জানা আছে। মামলা হওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





















