ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

ইতালি-ব্রাজিলের পর টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আর্জেন্টিনা সামনে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • / 74

ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে টানা দুই আসরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পেরেছে কেবল দুটি দেশ— ইতালি ও ব্রাজিল। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সামনে এই তালিকায় প্রবেশ করার সুবর্ণ সুযোগ থাকলেও টাইব্রেকারে তাদের হৃদয় ভেঙে ফুটবলবিশ্বের সর্বোচ্চ মুকুট মাথায় পরে আর্জেন্টিনা। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার সেই কঠিন মিশনে নামছে লিওনেল মেসি ও লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা। ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে এই অনন্য কীর্তি কি গড়তে পারবে আলবিসেলেস্তেরা?

ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায়, পরপর দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের প্রথম রেকর্ডটি গড়েছিল ইতালি। ১৯৩৪ সালে নিজেদের মাটিতে প্রথমবার শিরোপা জেতার পর, ১৯৩৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত আসরেও তারা চ্যাম্পিয়ন হয়। কিংবদন্তি কোচ ভিট্টোরিও পোজোর অধীনে তৎকালীন অপরাজেয় ইতালি দল ১৯৩৬ সালের অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়ের পাশাপাশি টানা ৩০ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছিল। ১৯৩৮ সালের ফাইনালে হাঙ্গেরিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে তারা টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বসেরা হয়। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেওয়ায় ইতালির টানা তিনবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেস্তে যায়।

এই গৌরবের দ্বিতীয় অংশীদার ল্যাটিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সী তরুণ পেলে’র জাদুকরী নৈপুণ্যে ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় সেলেসাওরা। এর ঠিক চার বছর পর ১৯৬২ সালে চিলির বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামে তারা।

আরও পড়ুন  মেসিকে বিশ্বকাপে ফিট রাখার জন্য ছুটি নেওয়ার পরামর্শ

সেই আসরের গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচেই তারকা ফুটবলার পেলে চোট পেয়ে ছিটকে গেলেও গারিঞ্চা, ভাভা ও আমারিলদোদের দুর্দান্ত ফর্মে ফাইনালে পৌঁছায় ব্রাজিল। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে চেকোস্লোভাকিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়ে তারা।

চার বছর আগে কাতারে ফ্রান্সের অধরা থেকে যাওয়া সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়ে এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে নামছে আর্জেন্টিনা। তবে বরাবরের মতোই শান্ত ও ধীরস্থির আছেন আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনি। দেশবাসীর আকাশচুম্বী প্রত্যাশা ও চাপের কথা মাথায় রেখে স্কালোনির ভাষ্য, “আমরা ভালো আছি এবং মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে আছি।

আমরা জানি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কারণে প্রতিপক্ষরা এবার আমাদের ভিন্ন চোখে এবং ভিন্ন কৌশলে দেখবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা সেখানে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকব। এরপর তো ফুটবল, সেখানে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ইতালি-ব্রাজিলের পর টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আর্জেন্টিনা সামনে

আপডেট সময় ০৭:০৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে টানা দুই আসরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পেরেছে কেবল দুটি দেশ— ইতালি ও ব্রাজিল। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সামনে এই তালিকায় প্রবেশ করার সুবর্ণ সুযোগ থাকলেও টাইব্রেকারে তাদের হৃদয় ভেঙে ফুটবলবিশ্বের সর্বোচ্চ মুকুট মাথায় পরে আর্জেন্টিনা। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার সেই কঠিন মিশনে নামছে লিওনেল মেসি ও লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা। ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে এই অনন্য কীর্তি কি গড়তে পারবে আলবিসেলেস্তেরা?

ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায়, পরপর দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের প্রথম রেকর্ডটি গড়েছিল ইতালি। ১৯৩৪ সালে নিজেদের মাটিতে প্রথমবার শিরোপা জেতার পর, ১৯৩৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত আসরেও তারা চ্যাম্পিয়ন হয়। কিংবদন্তি কোচ ভিট্টোরিও পোজোর অধীনে তৎকালীন অপরাজেয় ইতালি দল ১৯৩৬ সালের অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়ের পাশাপাশি টানা ৩০ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছিল। ১৯৩৮ সালের ফাইনালে হাঙ্গেরিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে তারা টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বসেরা হয়। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেওয়ায় ইতালির টানা তিনবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেস্তে যায়।

এই গৌরবের দ্বিতীয় অংশীদার ল্যাটিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সী তরুণ পেলে’র জাদুকরী নৈপুণ্যে ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় সেলেসাওরা। এর ঠিক চার বছর পর ১৯৬২ সালে চিলির বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামে তারা।

আরও পড়ুন  মেসিকে বিশ্বকাপে ফিট রাখার জন্য ছুটি নেওয়ার পরামর্শ

সেই আসরের গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচেই তারকা ফুটবলার পেলে চোট পেয়ে ছিটকে গেলেও গারিঞ্চা, ভাভা ও আমারিলদোদের দুর্দান্ত ফর্মে ফাইনালে পৌঁছায় ব্রাজিল। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে চেকোস্লোভাকিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়ে তারা।

চার বছর আগে কাতারে ফ্রান্সের অধরা থেকে যাওয়া সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়ে এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে নামছে আর্জেন্টিনা। তবে বরাবরের মতোই শান্ত ও ধীরস্থির আছেন আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনি। দেশবাসীর আকাশচুম্বী প্রত্যাশা ও চাপের কথা মাথায় রেখে স্কালোনির ভাষ্য, “আমরা ভালো আছি এবং মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে আছি।

আমরা জানি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কারণে প্রতিপক্ষরা এবার আমাদের ভিন্ন চোখে এবং ভিন্ন কৌশলে দেখবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা সেখানে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকব। এরপর তো ফুটবল, সেখানে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।”