ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলার রায়, গৃহশিক্ষক রনির মৃত্যুদণ্ড নেত্রকোণায় তিন নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে ‘দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছে নাহিদ ইসলাম: রাশেদ খাঁন সুস্থ হয়ে উঠছেন মির্জা আব্বাস, শিগগিরই ফিরছেন দেশে গ্রাফিক আর্টস ও মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ দেশের অর্থনীতি চাঙা করতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের নতুন ইউনিফর্মের মডেল চূড়ান্ত; জুলাই থেকে বিতরণ শুরু নওগাঁয় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ডাকাত দলের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে বৃষ্টির বাগড়া, বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে শঙ্কা বজ্রপাত থেকে বাঁচতে জরুরি ১০ সতর্কতা

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে জরুরি ১০ সতর্কতা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৫৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 24

ছবি: সংগৃহীত

প্রতি বছর বজ্রপাতের কারণে দেশে অসংখ্য প্রাণহানি ঘটছে। বিশেষ করে কালবৈশাখী ও বর্ষা মৌসুমে প্রকৃতির এই ধ্বংসাত্মক রূপ জনজীবনে বড় ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় সঠিক সতর্কতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণই পারে জানমালের ক্ষতি কমিয়ে আনতে। আপনার নিরাপত্তার জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় নিন: বজ্রঝড় শুরু হলে খোলা জায়গা, টিনের চালা বা অস্থায়ী অবকাঠামো এড়িয়ে দ্রুত কংক্রিটের মজবুত ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিন। বাইরে থাকলে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা গাড়ির ভেতরে অবস্থান করাও তুলনামূলক নিরাপদ।
২. গাছের নিচে দাঁড়াবেন না: বজ্রপাত সাধারণত উঁচু গাছে আঘাত করে এবং সেখান থেকে বিদ্যুৎ মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে। তাই ঝড়ের সময় বড় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক।
৩. পানির সংস্পর্শ বর্জন করুন: পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী। বজ্রপাতের সময় নদী, পুকুর, ডোবা বা সুইমিং পুল থেকে দূরে থাকুন। নৌকায় থাকলে দ্রুত নিরাপদ কিনারে চলে আসুন।
৪. বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে দূরত্ব: ঝড়ের সময় তারযুক্ত ফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন বা চার্জে থাকা মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন না। সরাসরি আঘাত না করলেও বিদ্যুৎ লাইনের মাধ্যমে উচ্চ ভোল্টেজ প্রবাহিত হয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
৫. ধাতব বস্তু এড়িয়ে চলুন: লোহার বেড়া, ধাতব পাইপ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা ছাতা বিদ্যুৎ পরিবাহিত করতে পারে। বজ্রপাতের সময় এসব বস্তু থেকে দূরে থাকা জরুরি।
৬. ঘরের ভেতরেও সতর্কতা: বাড়ির ভেতরে থাকলেও জানালা ও দরজা থেকে দূরে থাকুন। সম্ভব হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা ভালো।
৭. রাবারের জুতা ব্যবহার করুন: খালি পায়ে মাটিতে থাকা ঝুঁকির কারণ হতে পারে। রাবার বা প্লাস্টিকের সোলযুক্ত জুতা ব্যবহার করলে মাটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রবাহের প্রভাব কিছুটা কমে।
৮. খোলা মাঠে থাকলে কী করবেন? যদি খোলা মাঠে থাকা অবস্থায় বজ্রপাত শুরু হয় এবং আশেপাশে কোনো ভবন না থাকে, তবে কানে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে উবু হয়ে বসে পড়ুন। মাটির ওপর শুয়ে পড়বেন না।
৯. শিশুদের সচেতনতা: জরুরি পরিস্থিতিতে শিশুরা যাতে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে, সে বিষয়ে তাদের আগে থেকেই শিক্ষা দিন।
১০. অপেক্ষা করুন: বজ্রধ্বনির শব্দ থামার পরও অন্তত ৩০ মিনিট ঘরের বাইরে বের হওয়া নিরাপদ নয়। কারণ ঝড় চলে গেলেও বজ্রপাতের প্রচ্ছন্ন ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।

বজ্রপাতের সময় সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হলো আগাম সচেতনতা। নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করুন এবং দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকুন।

আরও পড়ুন  সিলেটে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫৫ বছর বয়সী জেলের মৃত্যু

নিউজটি শেয়ার করুন

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে জরুরি ১০ সতর্কতা

আপডেট সময় ০২:৫৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

প্রতি বছর বজ্রপাতের কারণে দেশে অসংখ্য প্রাণহানি ঘটছে। বিশেষ করে কালবৈশাখী ও বর্ষা মৌসুমে প্রকৃতির এই ধ্বংসাত্মক রূপ জনজীবনে বড় ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় সঠিক সতর্কতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণই পারে জানমালের ক্ষতি কমিয়ে আনতে। আপনার নিরাপত্তার জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় নিন: বজ্রঝড় শুরু হলে খোলা জায়গা, টিনের চালা বা অস্থায়ী অবকাঠামো এড়িয়ে দ্রুত কংক্রিটের মজবুত ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিন। বাইরে থাকলে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা গাড়ির ভেতরে অবস্থান করাও তুলনামূলক নিরাপদ।
২. গাছের নিচে দাঁড়াবেন না: বজ্রপাত সাধারণত উঁচু গাছে আঘাত করে এবং সেখান থেকে বিদ্যুৎ মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে। তাই ঝড়ের সময় বড় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক।
৩. পানির সংস্পর্শ বর্জন করুন: পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী। বজ্রপাতের সময় নদী, পুকুর, ডোবা বা সুইমিং পুল থেকে দূরে থাকুন। নৌকায় থাকলে দ্রুত নিরাপদ কিনারে চলে আসুন।
৪. বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে দূরত্ব: ঝড়ের সময় তারযুক্ত ফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন বা চার্জে থাকা মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন না। সরাসরি আঘাত না করলেও বিদ্যুৎ লাইনের মাধ্যমে উচ্চ ভোল্টেজ প্রবাহিত হয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
৫. ধাতব বস্তু এড়িয়ে চলুন: লোহার বেড়া, ধাতব পাইপ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা ছাতা বিদ্যুৎ পরিবাহিত করতে পারে। বজ্রপাতের সময় এসব বস্তু থেকে দূরে থাকা জরুরি।
৬. ঘরের ভেতরেও সতর্কতা: বাড়ির ভেতরে থাকলেও জানালা ও দরজা থেকে দূরে থাকুন। সম্ভব হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা ভালো।
৭. রাবারের জুতা ব্যবহার করুন: খালি পায়ে মাটিতে থাকা ঝুঁকির কারণ হতে পারে। রাবার বা প্লাস্টিকের সোলযুক্ত জুতা ব্যবহার করলে মাটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রবাহের প্রভাব কিছুটা কমে।
৮. খোলা মাঠে থাকলে কী করবেন? যদি খোলা মাঠে থাকা অবস্থায় বজ্রপাত শুরু হয় এবং আশেপাশে কোনো ভবন না থাকে, তবে কানে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে উবু হয়ে বসে পড়ুন। মাটির ওপর শুয়ে পড়বেন না।
৯. শিশুদের সচেতনতা: জরুরি পরিস্থিতিতে শিশুরা যাতে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে, সে বিষয়ে তাদের আগে থেকেই শিক্ষা দিন।
১০. অপেক্ষা করুন: বজ্রধ্বনির শব্দ থামার পরও অন্তত ৩০ মিনিট ঘরের বাইরে বের হওয়া নিরাপদ নয়। কারণ ঝড় চলে গেলেও বজ্রপাতের প্রচ্ছন্ন ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।

বজ্রপাতের সময় সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হলো আগাম সচেতনতা। নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করুন এবং দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকুন।

আরও পড়ুন  তিন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা