ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নেত্রকোণায় তিন নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে ‘দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছে নাহিদ ইসলাম: রাশেদ খাঁন সুস্থ হয়ে উঠছেন মির্জা আব্বাস, শিগগিরই ফিরছেন দেশে গ্রাফিক আর্টস ও মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ দেশের অর্থনীতি চাঙা করতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের নতুন ইউনিফর্মের মডেল চূড়ান্ত; জুলাই থেকে বিতরণ শুরু নওগাঁয় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ডাকাত দলের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে বৃষ্টির বাগড়া, বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে শঙ্কা বজ্রপাত থেকে বাঁচতে জরুরি ১০ সতর্কতা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষেই অবসরে নিউজিল্যান্ডের ৩ কিংবদন্তি

দেশের ৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, বিপৎসীমার ওপরে ৪ নদীর পানি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:২১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 19

ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি

টানা কয়েক দিনের অতিভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) জানিয়েছে, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিচু এলাকায় ইতোমধ্যে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এছাড়া সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, চারটি প্রধান নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, নেত্রকোনার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ভুগাই কংস, সোমেশ্বরী ও মগরা এবং মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নেত্রকোনার দুর্গাপুর এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং ভুগাই কংস নদীর পানি বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
পাশাপাশি সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট নদীগুলোতে বৃষ্টির পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি আরও ঘনীভূত হয়েছে।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানে মুষলধারে বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় ২৫ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১৭

আবহাওয়া অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ১৬১ মিলিমিটার। এছাড়া ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার দেশের আট বিভাগেই পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদীগুলোর পানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজধানী ঢাকাতেও আজ সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। নগরের দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণ নগরবাসীর চলাচলে চরম ভোগান্তি তৈরি করেছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, বৃষ্টিপাতের তীব্রতা না কমলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশের ৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, বিপৎসীমার ওপরে ৪ নদীর পানি

আপডেট সময় ০২:২১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

টানা কয়েক দিনের অতিভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) জানিয়েছে, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিচু এলাকায় ইতোমধ্যে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এছাড়া সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, চারটি প্রধান নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, নেত্রকোনার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ভুগাই কংস, সোমেশ্বরী ও মগরা এবং মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নেত্রকোনার দুর্গাপুর এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং ভুগাই কংস নদীর পানি বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
পাশাপাশি সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট নদীগুলোতে বৃষ্টির পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি আরও ঘনীভূত হয়েছে।

আরও পড়ুন  বন্যার জলে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন, বিপাকে কুড়িগ্রামের চরবাসীরা

আবহাওয়া অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ১৬১ মিলিমিটার। এছাড়া ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার দেশের আট বিভাগেই পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদীগুলোর পানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজধানী ঢাকাতেও আজ সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। নগরের দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণ নগরবাসীর চলাচলে চরম ভোগান্তি তৈরি করেছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, বৃষ্টিপাতের তীব্রতা না কমলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করতে পারে।