ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের তালিকা করবে গোয়েন্দা সংস্থা: আইজিপি পদত্যাগের পর হাসিমুখে পূজামণ্ডপে ইশরাক সৌদি আরবে নিহত নুরুল হকের পরিবার পেলেন ক্ষতিপূরণ বিচ্ছেদের পর নতুন রূপে শেহতাজ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে নেতানিয়াহুর, খুঁজছেন নতুন মিত্র সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার ববি হাজ্জাজের নিজ সন্তানের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

মেসেজে ‘কবুল’ লিখলেই কি বিয়ে হয়ে যায়?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 155

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেনাকাটা থেকে শুরু করে দাপ্তরিক যোগাযোগ—সবই এখন অনলাইন নির্ভর। তবে এই আধুনিক যুগে ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমোর মতো মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে বিয়ের প্রস্তাব ও গ্রহণ বা ‘ইজাব-কবুল’ করলে তা ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ হবে কি না, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

শরিয়ত ও ফিকাহ শাস্ত্রের আলোকে বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন গবেষক ও আলেমগণ।

শরিয়ত বিশারদদের মতে, ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো মাধ্যমে এক পক্ষ বিয়ের প্রস্তাব দিলে এবং অন্য পক্ষ তা লিখে গ্রহণ করলে বিয়ে সম্পন্ন হয় না। বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার প্রধানতম শর্ত হলো—পাত্র ও পাত্রী অথবা পাত্রীর অনুমোদিত প্রতিনিধিকে একই বৈঠকে বা মজলিসে উপস্থিত থাকতে হবে। ডিজিটাল বার্তার আদান-প্রদান ‘একই মজলিসে উপস্থিতি’র শর্ত পূরণ করে না, তাই এভাবে করা ইজাব-কবুল ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন  'জেন-জি'দের আগে বিয়ে নাকি ক্যারিয়ার?

বিয়ের বৈধতার জন্য সাক্ষী থাকা একটি অলঙ্ঘনীয় শর্ত। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, বিয়ের আকদ বা ইজাব-কবুলের সময় অন্তত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারীর সরাসরি উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এমনকি পাত্র-পাত্রী নিজেরা সরাসরি দেখা করে প্রস্তাব বিনিময় করলেও যদি সেখানে নির্ধারিত সংখ্যক সাক্ষী না থাকে, তবে সেই বিয়ে বৈধ হবে না।

এ প্রসঙ্গে সহিহ ইবনে হিব্বানের একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে হয় না।”

বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য নির্দিষ্টভাবে কাউকে সাক্ষী হিসেবে নিয়োগ করা জরুরি নয়। যদি জনসমক্ষে বা অনেকের উপস্থিতিতে বিয়ের আকদ সম্পন্ন হয় এবং উপস্থিত ব্যক্তিরা ইজাব ও কবুল শুনতে পান, তবে তাঁরাই সাক্ষীর মর্যাদা পাবেন। বিশেষ করে মসজিদে বহু মানুষের উপস্থিতিতে বিয়ে পড়ানো হলে উপস্থিত সবাই সাক্ষীর অন্তর্ভুক্ত হন।

ডিজিটাল মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে ‘কবুল’ বলা কেবল একটি সম্মতি বা আলোচনার অংশ হতে পারে, কিন্তু এটি বিয়ের পূর্ণাঙ্গ ও বৈধ ধর্মীয় প্রক্রিয়া হিসেবে গণ্য হবে না। বিয়ে বৈধ হতে হলে সাক্ষী এবং একই মজলিসে অবস্থানের বিধান অবশ্যই পালন করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মেসেজে ‘কবুল’ লিখলেই কি বিয়ে হয়ে যায়?

আপডেট সময় ০৭:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেনাকাটা থেকে শুরু করে দাপ্তরিক যোগাযোগ—সবই এখন অনলাইন নির্ভর। তবে এই আধুনিক যুগে ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমোর মতো মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে বিয়ের প্রস্তাব ও গ্রহণ বা ‘ইজাব-কবুল’ করলে তা ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ হবে কি না, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

শরিয়ত ও ফিকাহ শাস্ত্রের আলোকে বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন গবেষক ও আলেমগণ।

শরিয়ত বিশারদদের মতে, ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো মাধ্যমে এক পক্ষ বিয়ের প্রস্তাব দিলে এবং অন্য পক্ষ তা লিখে গ্রহণ করলে বিয়ে সম্পন্ন হয় না। বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার প্রধানতম শর্ত হলো—পাত্র ও পাত্রী অথবা পাত্রীর অনুমোদিত প্রতিনিধিকে একই বৈঠকে বা মজলিসে উপস্থিত থাকতে হবে। ডিজিটাল বার্তার আদান-প্রদান ‘একই মজলিসে উপস্থিতি’র শর্ত পূরণ করে না, তাই এভাবে করা ইজাব-কবুল ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন  'জেন-জি'দের আগে বিয়ে নাকি ক্যারিয়ার?

বিয়ের বৈধতার জন্য সাক্ষী থাকা একটি অলঙ্ঘনীয় শর্ত। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, বিয়ের আকদ বা ইজাব-কবুলের সময় অন্তত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারীর সরাসরি উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এমনকি পাত্র-পাত্রী নিজেরা সরাসরি দেখা করে প্রস্তাব বিনিময় করলেও যদি সেখানে নির্ধারিত সংখ্যক সাক্ষী না থাকে, তবে সেই বিয়ে বৈধ হবে না।

এ প্রসঙ্গে সহিহ ইবনে হিব্বানের একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে হয় না।”

বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য নির্দিষ্টভাবে কাউকে সাক্ষী হিসেবে নিয়োগ করা জরুরি নয়। যদি জনসমক্ষে বা অনেকের উপস্থিতিতে বিয়ের আকদ সম্পন্ন হয় এবং উপস্থিত ব্যক্তিরা ইজাব ও কবুল শুনতে পান, তবে তাঁরাই সাক্ষীর মর্যাদা পাবেন। বিশেষ করে মসজিদে বহু মানুষের উপস্থিতিতে বিয়ে পড়ানো হলে উপস্থিত সবাই সাক্ষীর অন্তর্ভুক্ত হন।

ডিজিটাল মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে ‘কবুল’ বলা কেবল একটি সম্মতি বা আলোচনার অংশ হতে পারে, কিন্তু এটি বিয়ের পূর্ণাঙ্গ ও বৈধ ধর্মীয় প্রক্রিয়া হিসেবে গণ্য হবে না। বিয়ে বৈধ হতে হলে সাক্ষী এবং একই মজলিসে অবস্থানের বিধান অবশ্যই পালন করতে হবে।