ঢাকা ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের তালিকা করবে গোয়েন্দা সংস্থা: আইজিপি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৪৭:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 16

ছবি সংগৃহীত

চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। এসব অপরাধ দমনে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে অপরাধীদের সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করে সমন্বিত অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়া এলাকায় রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের শারদীয় দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আইজিপি।

আলী হোসেন ফকির জানান, প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) এবং পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) সমন্বিতভাবে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা চূড়ান্ত করবে। তালিকা তৈরির পর চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করবে।

আরও পড়ুন  পুরনোদের দিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে না: গোলাম পরোয়ার

আইজিপি বলেন, সমাজে গুটিকয়েক দুষ্কৃতকারীর কারণে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এসব অপরাধে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি অপরাধীদের দীর্ঘ মেয়াদে সহজে জামিন পাওয়ার সুযোগ ঠেকানোর বিষয়ে প্রসিকিউশন ও আদালতকে অবহিত করা হবে।

মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান পুলিশপ্রধান। তিনি বলেন, মাদকের বিষাক্ত ছোবলে তরুণ সমাজের একটি অংশ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। এর প্রভাবে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনাও বাড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সন্তানদের চলাফেরা, তারা কোথায় যায় এবং কার সঙ্গে মেলামেশা করে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখার পরামর্শ দেন আইজিপি। তাঁর মতে, পরিবার থেকে সচেতনতা ও নজরদারি বাড়ানো গেলে কিশোর গ্যাং এবং মাদকের বিস্তার রোধে ভূমিকা রাখা সম্ভব।

কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ঠেকাতে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের নিয়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকবিরোধী সেল গঠনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন পুলিশপ্রধান।

ইয়াবার ভয়াবহতা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, মরণনেশা ইয়াবার কারণে সমাজে হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সচেতন মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এদিকে চলমান শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, পূজাকে ঘিরে সুনির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। তবে কোনো কুচক্রী বা দুষ্ট মহল যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

দেশজুড়ে আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মণ্ডপ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঞা, পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান এবং আমলাপাড়া পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা। এ ছাড়া স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের তালিকা করবে গোয়েন্দা সংস্থা: আইজিপি

আপডেট সময় ০১:৪৭:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। এসব অপরাধ দমনে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে অপরাধীদের সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করে সমন্বিত অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়া এলাকায় রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের শারদীয় দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আইজিপি।

আলী হোসেন ফকির জানান, প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) এবং পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) সমন্বিতভাবে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা চূড়ান্ত করবে। তালিকা তৈরির পর চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করবে।

আরও পড়ুন  আইজিপির আহ্বান: পুলিশের ওপর আক্রমণ না করে সহযোগিতা করুন

আইজিপি বলেন, সমাজে গুটিকয়েক দুষ্কৃতকারীর কারণে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এসব অপরাধে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি অপরাধীদের দীর্ঘ মেয়াদে সহজে জামিন পাওয়ার সুযোগ ঠেকানোর বিষয়ে প্রসিকিউশন ও আদালতকে অবহিত করা হবে।

মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান পুলিশপ্রধান। তিনি বলেন, মাদকের বিষাক্ত ছোবলে তরুণ সমাজের একটি অংশ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। এর প্রভাবে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনাও বাড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সন্তানদের চলাফেরা, তারা কোথায় যায় এবং কার সঙ্গে মেলামেশা করে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখার পরামর্শ দেন আইজিপি। তাঁর মতে, পরিবার থেকে সচেতনতা ও নজরদারি বাড়ানো গেলে কিশোর গ্যাং এবং মাদকের বিস্তার রোধে ভূমিকা রাখা সম্ভব।

কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ঠেকাতে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের নিয়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকবিরোধী সেল গঠনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন পুলিশপ্রধান।

ইয়াবার ভয়াবহতা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, মরণনেশা ইয়াবার কারণে সমাজে হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সচেতন মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এদিকে চলমান শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, পূজাকে ঘিরে সুনির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। তবে কোনো কুচক্রী বা দুষ্ট মহল যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

দেশজুড়ে আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মণ্ডপ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঞা, পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান এবং আমলাপাড়া পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা। এ ছাড়া স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।