ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমি বিরোধে ছাত্রকে হত্যা: ময়মনসিংহে ৭ আসামির সর্বোচ্চ সাজা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 1

ছবি সংগৃহীত

 

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কলেজছাত্র শাহিনুর আলম ওরফে ইকবাল (২০) হত্যা মামলায় ৭ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে অপরাধে সহায়তার দায়ে দুই নারীকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জাকির হোসেন জনাকীর্ণ আদালতে এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—আসিফ রানা নাঈম ওরফে রানা, মো. গোলাম হোসেন ওরফে ভুলু, মো. আব্দুল হেলিম, মোহাম্মদ আলী, মো. ফরিদ আহমেদ ওরফে বাবু, মো. ইউনুছ আলী ওরফে ইছাহ আলী এবং শামছুল হক। ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি বিচারক প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।

আরও পড়ুন  ময়মনসিংহে বাড়ি থেকে একই পরিবারের মা ও দুই শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা ও সহায়তা করার অভিযোগে মোছা. খালেদা আক্তার ও মোছা. রেহেনা খাতুন নামের দুই নারীকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র শাহিনুর আলম ইকবালকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের ভাই ইঞ্জিনিয়ার মো. সেলিম মিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক রায় প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আজিজ টুটুল সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে সমাজ ও ন্যায়বিচারের জয় হয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকবে এবং দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশা করছি।’

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এইচ এম খালেকুজ্জামান এই রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, তারা ন্যায়বিচার পাননি এবং এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামিরা আদালত কক্ষেই উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

জমি বিরোধে ছাত্রকে হত্যা: ময়মনসিংহে ৭ আসামির সর্বোচ্চ সাজা

আপডেট সময় ০৭:৪৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

 

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কলেজছাত্র শাহিনুর আলম ওরফে ইকবাল (২০) হত্যা মামলায় ৭ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে অপরাধে সহায়তার দায়ে দুই নারীকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জাকির হোসেন জনাকীর্ণ আদালতে এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—আসিফ রানা নাঈম ওরফে রানা, মো. গোলাম হোসেন ওরফে ভুলু, মো. আব্দুল হেলিম, মোহাম্মদ আলী, মো. ফরিদ আহমেদ ওরফে বাবু, মো. ইউনুছ আলী ওরফে ইছাহ আলী এবং শামছুল হক। ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি বিচারক প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।

আরও পড়ুন  ময়মনসিংহে জাকিরের টক-মিষ্টি জিলাপির কদর, রমজানে বিক্রি লক্ষাধিক টাকা

অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা ও সহায়তা করার অভিযোগে মোছা. খালেদা আক্তার ও মোছা. রেহেনা খাতুন নামের দুই নারীকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র শাহিনুর আলম ইকবালকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের ভাই ইঞ্জিনিয়ার মো. সেলিম মিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক রায় প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আজিজ টুটুল সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে সমাজ ও ন্যায়বিচারের জয় হয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকবে এবং দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশা করছি।’

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এইচ এম খালেকুজ্জামান এই রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, তারা ন্যায়বিচার পাননি এবং এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামিরা আদালত কক্ষেই উপস্থিত ছিলেন।