ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গম পাচার ও রেশন দুর্নীতি মামলা: নুসরাতকে তলব সীতাকুণ্ডে রেললাইনে কাজ করার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে কর্মীর মৃত্যু মানিকগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষামন্ত্রীর ঝটিকা সফর টেকনাফে গহীন পাহাড় থেকে রক্তাক্ত তিন মরদেহ উদ্ধার অ্যাপলের পদ ছাড়ছেন টিম কুক; নতুন নেতৃত্বে কে? সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন জমার শেষ দিন আজ সংসদ অধিবেশন সরাসরি দেখার সুযোগ পাচ্ছে ১৫০ শিক্ষার্থী; মানতে হবে ৬ শর্ত অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধি রুখতে কঠোর তদারকির আশ্বাস ডা. জাহেদ উর রহমানের বাগেরহাটের ফকিরহাটে র‍্যাবের হানা: ১৩ কেজি গাঁজাসহ আটক ১ ‘নতুন তাস’ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান; ফুরিয়ে আসছে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি

এসএসসি পরীক্ষা থেকে গায়েব ৪ লাখ শিক্ষার্থী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 36

ছবি সংগৃহীত

 

আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আগেই ঝরে গেছে অন্তত সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী। দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করেও এবারের মূল পরীক্ষায় তারা অংশ নিচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাল্যবিয়ে, বিদেশে পাড়ি জমানো এবং দারিদ্র্যসহ নানা আর্থ-সামাজিক কারণে এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষা জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ থেকে ছিটকে পড়েছে।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করেছিল ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। তবে তাদের মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে ফরম পূরণ করেছে মাত্র ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫১১ জন। অর্থাৎ, প্রায় ৪ লাখ ৪৬ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধনের পর আর পরীক্ষার টেবিলে ফিরতে পারেনি।

আরও পড়ুন  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু আজ, আসন প্রতি পরীক্ষার্থী ২৮৯

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতেই ঝরে পড়ার হার সবচেয়ে বেশি। এখানে ২ লাখ ২৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে না। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে নিবন্ধিত ৩ লাখ ৭৮ হাজারের মধ্যে পরীক্ষা দিচ্ছে ২ লাখ ৩৬ হাজার। আর কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৮৩ হাজার নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় বসছে ১ লাখ ৬ হাজার জন। তবে গত বছরের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীসহ এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।

এদিকে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অধীনে এটিই প্রথম বড় কোনো পাবলিক পরীক্ষা। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

পরীক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, বিষয়টি নিয়ে বোর্ড গবেষণা শুরু করেছে। তিনি বলেন, “গত বছরের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মেয়েদের ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ে একটি বড় কারণ ছিল। এছাড়া অনেক ছেলে শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর এলাকায় এই প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।” এসব সমস্যা নিরসনে শিক্ষকদের সাথে আলোচনার পাশাপাশি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের তুলনায় এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৯ হাজার ২৩৫ জন কমেছে। এই ধারাবাহিক পতন রোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এসএসসি পরীক্ষা থেকে গায়েব ৪ লাখ শিক্ষার্থী

আপডেট সময় ১২:০৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

 

আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আগেই ঝরে গেছে অন্তত সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী। দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করেও এবারের মূল পরীক্ষায় তারা অংশ নিচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাল্যবিয়ে, বিদেশে পাড়ি জমানো এবং দারিদ্র্যসহ নানা আর্থ-সামাজিক কারণে এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষা জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ থেকে ছিটকে পড়েছে।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করেছিল ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। তবে তাদের মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে ফরম পূরণ করেছে মাত্র ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫১১ জন। অর্থাৎ, প্রায় ৪ লাখ ৪৬ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধনের পর আর পরীক্ষার টেবিলে ফিরতে পারেনি।

আরও পড়ুন  শিক্ষা ও স্বাস্থ্যই ভবিষ্যতের চাবিকাঠি: শিক্ষা উপদেষ্টা

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতেই ঝরে পড়ার হার সবচেয়ে বেশি। এখানে ২ লাখ ২৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে না। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে নিবন্ধিত ৩ লাখ ৭৮ হাজারের মধ্যে পরীক্ষা দিচ্ছে ২ লাখ ৩৬ হাজার। আর কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৮৩ হাজার নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় বসছে ১ লাখ ৬ হাজার জন। তবে গত বছরের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীসহ এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।

এদিকে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অধীনে এটিই প্রথম বড় কোনো পাবলিক পরীক্ষা। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

পরীক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, বিষয়টি নিয়ে বোর্ড গবেষণা শুরু করেছে। তিনি বলেন, “গত বছরের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মেয়েদের ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ে একটি বড় কারণ ছিল। এছাড়া অনেক ছেলে শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর এলাকায় এই প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।” এসব সমস্যা নিরসনে শিক্ষকদের সাথে আলোচনার পাশাপাশি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের তুলনায় এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৯ হাজার ২৩৫ জন কমেছে। এই ধারাবাহিক পতন রোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।