ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান

কাপ্তাই হ্রদে নাব্য সংকট: পানির অভাবে ৩টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 125

ছবি: সংগৃহীত

টানা অনাবৃষ্টি ও তীব্র তাপদাহে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (কপাবিকে) উৎপাদন সংকটে পড়েছে। কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে ৩টি ইউনিটে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সচল থাকা বাকি ২টি ইউনিটে গড়ে মাত্র ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা ১১টায় কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এই কেন্দ্রে পানির অভাবে উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে:

বর্তমান উৎপাদন: ৫টি ইউনিটের মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ইউনিট থেকে বর্তমানে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
পানির লেভেল: বর্তমানে হ্রদে ৮৫ দশমিক ৮০ মিন সি লেভেল (এমএসএল) পানি থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৮১ দশমিক ০২ এমএসএল।
বিপজ্জনক সীমা: পানির স্তর ৬৮ এমএসএল-এ নেমে গেলে কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য, হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।

আরও পড়ুন  নিকারাগুয়া—হ্রদ, আগ্নেয়গিরি আর ইতিহাসের দেশ

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় রাঙ্গামাটির ৫টি উপজেলার মানুষের জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।

বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ: বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার নৌ-যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে। লেকের বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নাব্য সংকট: দীর্ঘদিনের পলি জমে হ্রদের নাব্য হ্রাস পাওয়ায় সামান্য পানি কমলেই নৌপথ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে লেকের ওপর নির্ভরশীল হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট যান্ত্রিকভাবে সচল থাকলেও কেবল পানির অভাবেই ৩টি ইউনিট চালানো যাচ্ছে না। সহসা ভারী বৃষ্টিপাত না হলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে হ্রদে পানির স্তর বাড়ার সাথে সাথে উৎপাদন পুনরায় পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

কাপ্তাই হ্রদে নাব্য সংকট: পানির অভাবে ৩টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ

আপডেট সময় ০৪:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

টানা অনাবৃষ্টি ও তীব্র তাপদাহে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (কপাবিকে) উৎপাদন সংকটে পড়েছে। কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে ৩টি ইউনিটে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সচল থাকা বাকি ২টি ইউনিটে গড়ে মাত্র ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা ১১টায় কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এই কেন্দ্রে পানির অভাবে উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে:

বর্তমান উৎপাদন: ৫টি ইউনিটের মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ইউনিট থেকে বর্তমানে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
পানির লেভেল: বর্তমানে হ্রদে ৮৫ দশমিক ৮০ মিন সি লেভেল (এমএসএল) পানি থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৮১ দশমিক ০২ এমএসএল।
বিপজ্জনক সীমা: পানির স্তর ৬৮ এমএসএল-এ নেমে গেলে কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য, হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।

আরও পড়ুন  পাহাড়ি জীবনের চ্যালেঞ্জ: খরার কারণে পানির সংকট

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় রাঙ্গামাটির ৫টি উপজেলার মানুষের জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।

বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ: বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার নৌ-যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে। লেকের বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নাব্য সংকট: দীর্ঘদিনের পলি জমে হ্রদের নাব্য হ্রাস পাওয়ায় সামান্য পানি কমলেই নৌপথ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে লেকের ওপর নির্ভরশীল হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট যান্ত্রিকভাবে সচল থাকলেও কেবল পানির অভাবেই ৩টি ইউনিট চালানো যাচ্ছে না। সহসা ভারী বৃষ্টিপাত না হলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে হ্রদে পানির স্তর বাড়ার সাথে সাথে উৎপাদন পুনরায় পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।