ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্যের লড়াই: কুপিয়ে হত্যা করা হলো ‘এলেক্স ইমনকে’ শান্তি আলোচনা থেকে ইরান কি হার না মানার বার্তা দিতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শক্তি, বৈচিত্র্য আর বিশ্বনেতৃত্বের প্রতীক হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শক্তি, বৈচিত্র্য আর বিশ্বনেতৃত্বের প্রতীক হামে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু দুই কলেজ শিক্ষককে পার্সেলে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হুমকি মারা গেছেন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে ঝালকাঠিতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর নিহত মীরসরাইয়ে ৬০ কেজি গাঁজাসহ কাভার্ড ভ্যান জব্দ, গ্রেপ্তার ২

ভেস্তে গেল ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনা, চুক্তি ছাড়াই ফিরছে মার্কিন প্রতিনিধি দল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২০:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 31

ছবি সংগৃহীত

টানা ৩৮ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শেষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার প্রথম বড় প্রচেষ্টাটি ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ২১ ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর আলোচনা কোনো প্রকার সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পেরে মার্কিন প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তসমূহ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভ্যান্স বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। আমাদের প্রয়োজন ছিল একটি স্থায়ী ও মৌলিক প্রতিশ্রুতি, যা তাদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।”

তিনি আরও যোগ করেন, এই সমঝোতা না হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর। আলোচনার সময় মার্কিন প্রতিনিধি দল অন্তত ১২ বার সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং একটি ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম’ প্রস্তাব তেহরানের সিদ্ধান্তের জন্য রেখে এসেছে।

আরও পড়ুন  গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েন নিয়ে ফ্রান্স-ডেনমার্ক আলোচনা

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েলের ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু হওয়ার পর এই সংঘাত চরম রূপ নেয়। হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যসহ ৩ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। পাল্টা জবাবে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েল ও মার্কিন মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তছনছ করে দেয় এবং হরমুজ প্রণালিতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।

ইসলামাবাদে যখন শান্তি আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই লেবাননে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় ৩০০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গেই বোঝাপড়া করে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

এই দ্বিমুখী আচরণের কারণে ইরান এখন চরম সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সমঝোতা ব্যর্থ হওয়া এবং লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তেহরান ইতোমধ্যে সামরিকভাবে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য আবারও এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভেস্তে গেল ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনা, চুক্তি ছাড়াই ফিরছে মার্কিন প্রতিনিধি দল

আপডেট সময় ১১:২০:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

টানা ৩৮ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শেষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার প্রথম বড় প্রচেষ্টাটি ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ২১ ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর আলোচনা কোনো প্রকার সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পেরে মার্কিন প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তসমূহ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভ্যান্স বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। আমাদের প্রয়োজন ছিল একটি স্থায়ী ও মৌলিক প্রতিশ্রুতি, যা তাদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।”

তিনি আরও যোগ করেন, এই সমঝোতা না হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর। আলোচনার সময় মার্কিন প্রতিনিধি দল অন্তত ১২ বার সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং একটি ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম’ প্রস্তাব তেহরানের সিদ্ধান্তের জন্য রেখে এসেছে।

আরও পড়ুন  গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েন নিয়ে ফ্রান্স-ডেনমার্ক আলোচনা

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েলের ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু হওয়ার পর এই সংঘাত চরম রূপ নেয়। হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যসহ ৩ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। পাল্টা জবাবে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েল ও মার্কিন মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তছনছ করে দেয় এবং হরমুজ প্রণালিতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।

ইসলামাবাদে যখন শান্তি আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই লেবাননে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় ৩০০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গেই বোঝাপড়া করে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

এই দ্বিমুখী আচরণের কারণে ইরান এখন চরম সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সমঝোতা ব্যর্থ হওয়া এবং লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তেহরান ইতোমধ্যে সামরিকভাবে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য আবারও এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।