পাঁচ নবজাতকের সুস্থতায় গাজীপুরে খুশির জোয়ার: বিরল ঘটনার সাক্ষী কাপাসিয়া
- আপডেট সময় ০৫:১৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
- / 26
গাজীপুরের কাপাসিয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম দিগাবোতে এখন উৎসবের আমেজ। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে মা হওয়ার আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়ে একই সঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন মাসুমা আক্তার নামে এক গৃহবধূ। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষ আর মায়ের অদম্য সাহসের ওপর ভর করে ৫ দিনের সফল চিকিৎসা শেষে সুস্থ শরীরে সন্তানদের নিয়ে নিজ ঘরে ফিরেছেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে যখন দিগাবো গ্রামের বাসিন্দা কাজল মিয়ার স্ত্রী মাসুমা তার তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে পৌঁছান, তখন পুরো এলাকায় যেন ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।
পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে দূর-দূরান্তের মানুষও এই বিরল দৃশ্য একনজর দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন কাজল মিয়ার আঙিনায়। গত ৫ এপ্রিল প্রসব বেদনা নিয়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মাসুমা, আর সেখানেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সফলভাবে পৃথিবীর আলো দেখে এই পাঁচ শিশু।
এই পুরো ঘটনাটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক। সাধারণত একসঙ্গে এতগুলো শিশুর জন্ম হলে তাদের ওজন ও শারীরিক গঠন নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি থাকে, যা প্রায়ই আশঙ্কার জন্ম দেয়। তবে চিকিৎসক ডা. কামরুজ্জামান সেলিমের ভাষ্যমতে, এই শিশুদের সম্মিলিত ওজন প্রায় ৮ কেজির মতো, যা রীতিমতো বিস্ময়কর। প্রতিটি শিশুর গড় ওজন ১ কেজি ৪০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ৫০০ গ্রামের মধ্যে থাকায় তারা স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ ও আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশে এর আগে একসঙ্গে পাঁচটি সুস্থ শিশুর জন্ম এবং পরবর্তী সময়ে তাদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার ঘটনা সচরাচর দেখা যায়নি। চিকিৎসকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টা এবং পরিবারের দৃঢ় সংকল্পের কারণেই আজ মা ও পাঁচ শিশু সুস্থভাবে ফিরে আসতে পেরেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দেশজুড়ে এক ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে প্রকৃতির আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন। তবে অভাবনীয় এই আনন্দের মুহূর্তেও নবজাতকদের মা-বাবা কিছুটা রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছেন।
সন্তানদের নিবিড় যত্ন এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা এই মুহূর্তে গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে সরাসরি কথা বলতে বা কোনো সাক্ষাৎকার দিতে আগ্রহী নন। তাদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রাধান্য হলো সন্তানদের নিরাপত্তা এবং পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা। দিগাবো গ্রামের সেই বাড়িতে এখন শুধু খুশির গুঞ্জন আর নতুন প্রাণের কলরব, যা পুরো গাজীপুর জেলাকে এক অভূতপূর্ব মানবিক গল্পের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।






















