ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

কুয়েতের তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন হামলা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০৯:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 11

ছবি সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার সরাসরি আক্রান্ত হলো কুয়েত। ইসরায়েল ও মার্কিন যৌথ বাহিনীর হামলার পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে কুয়েতের জাতীয় তেল কোম্পানির একটি বৃহৎ শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে শোধনাগারটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। কুয়েতি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘কুনা’ এবং আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ‘এএফপি’ এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে কুয়েতের অন্যতম প্রধান ‘মিনা আল-আহমাদি’ শোধনাগারকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে শোধনাগারের একাধিক ইউনিটে তাৎক্ষণিক আগুন ধরে যায়। বর্তমানে উদ্ধারকারী দল এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সেখানে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই হামলার ফলে কুয়েতের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  পারমাণবিক ইস্যুতে রোমে বৈঠকে মুখোমুখি ইরান-

এদিকে যুদ্ধের ময়দানে আরও এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের মধ্যাঞ্চলের আকাশসীমায় উড্ডয়নরত অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক স্টিলথ এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান টার্গেট করে ভূপাতিত করা হয়েছে।

ইরানি বার্তা সংস্থা ‘ফার্স নিউজ’ তাদের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে জানিয়েছে:
যুদ্ধবিমানটি আকাশেই ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস ও বিধ্বস্ত’ হয়েছে।
দ্রুত গতির এই ধ্বংসযজ্ঞের কারণে বিমানের পাইলট বের হওয়ার সুযোগ পাননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অপর বার্তা সংস্থা ‘মেহের’ জানিয়েছে, পাইলটের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ, কারণ বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে।

বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতের তেল শোধনাগারে আঘাত হেনে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা কেবল ইসরায়েল নয় বরং এ অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, স্টিলথ প্রযুক্তির এফ-৩৫ বিমান ভূপাতিত হওয়ার খবরটি সত্য হলে তা মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে।

ইরানের এই দ্বিমুখী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কুয়েতের তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন হামলা

আপডেট সময় ০৬:০৯:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

 

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার সরাসরি আক্রান্ত হলো কুয়েত। ইসরায়েল ও মার্কিন যৌথ বাহিনীর হামলার পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে কুয়েতের জাতীয় তেল কোম্পানির একটি বৃহৎ শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে শোধনাগারটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। কুয়েতি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘কুনা’ এবং আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ‘এএফপি’ এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে কুয়েতের অন্যতম প্রধান ‘মিনা আল-আহমাদি’ শোধনাগারকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে শোধনাগারের একাধিক ইউনিটে তাৎক্ষণিক আগুন ধরে যায়। বর্তমানে উদ্ধারকারী দল এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সেখানে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই হামলার ফলে কুয়েতের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ইরানে সুন্নি হামলায় নিহত ৫

এদিকে যুদ্ধের ময়দানে আরও এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের মধ্যাঞ্চলের আকাশসীমায় উড্ডয়নরত অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক স্টিলথ এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান টার্গেট করে ভূপাতিত করা হয়েছে।

ইরানি বার্তা সংস্থা ‘ফার্স নিউজ’ তাদের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে জানিয়েছে:
যুদ্ধবিমানটি আকাশেই ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস ও বিধ্বস্ত’ হয়েছে।
দ্রুত গতির এই ধ্বংসযজ্ঞের কারণে বিমানের পাইলট বের হওয়ার সুযোগ পাননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অপর বার্তা সংস্থা ‘মেহের’ জানিয়েছে, পাইলটের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ, কারণ বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে।

বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতের তেল শোধনাগারে আঘাত হেনে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা কেবল ইসরায়েল নয় বরং এ অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, স্টিলথ প্রযুক্তির এফ-৩৫ বিমান ভূপাতিত হওয়ার খবরটি সত্য হলে তা মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে।

ইরানের এই দ্বিমুখী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখন চরম ঝুঁকির মুখে।