ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

ট্রাম্পকে ‘প্রতিদিন কথা বলা’ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ ম্যাক্রোর; ন্যাটো নিয়ে উদ্বেগ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 14

ছবি সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান যুদ্ধ এবং ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন ও সাংঘর্ষিক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। ট্রাম্পের প্রতিদিনের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও বিভ্রান্তিকর করে তুলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে এক বক্তব্যে ম্যাক্রো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘সংযত’ হয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন।

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় এক ভাষণে ইমানুয়েল ম্যাক্রো সরাসরি ট্রাম্পের নাম না নিলেও তার উদ্দেশ্যেই বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিরিয়াস হতে হলে প্রতিদিন আগের দিনের কথার বিপরীত কথা বলা যায় না। সম্ভবত প্রতিদিন কথা বলারও প্রয়োজন নেই।” ম্যাক্রোর মতে, বৈশ্বিক সংকটের সময় রাষ্ট্রপ্রধানদের বক্তব্য হওয়া উচিত স্থির এবং নির্ভরযোগ্য, যা ট্রাম্পের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কে কাঁপছে বিশ্ববাজার, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারস্থ অর্ধশতাধিক দেশ

আটলান্টিক তীরের সামরিক জোট ন্যাটো নিয়ে ট্রাম্পের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ফ্রান্সকে ভাবিয়ে তুলছে। ম্যাক্রো বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন সন্দেহ তৈরি হওয়ায় জোটটি দুর্বল হয়ে পড়ছে। আপনি যদি প্রতিদিন আপনার অঙ্গীকার নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেন, তাহলে সেই জোট ভেতর থেকে ফাঁপা হয়ে যায়।” ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, ম্যাক্রোর বক্তব্যে তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।

অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের পর ন্যাটোর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ:
যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে যথেষ্ট প্রতিদান পাচ্ছে না।
ন্যাটো বর্তমানে একটি ‘কাগুজে বাঘ’ বা অকার্যকর জোটে পরিণত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পশ্চিমের দুই প্রধান মিত্র দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এই বাকযুদ্ধ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যে এই দূরত্ব রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষ দেশগুলোকে কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে এবং ন্যাটোর ঐক্যকে দীর্ঘমেয়াদী সংকটে ফেলতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রাম্পকে ‘প্রতিদিন কথা বলা’ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ ম্যাক্রোর; ন্যাটো নিয়ে উদ্বেগ

আপডেট সময় ০৩:৩৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

 

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান যুদ্ধ এবং ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন ও সাংঘর্ষিক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। ট্রাম্পের প্রতিদিনের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও বিভ্রান্তিকর করে তুলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে এক বক্তব্যে ম্যাক্রো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘সংযত’ হয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন।

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় এক ভাষণে ইমানুয়েল ম্যাক্রো সরাসরি ট্রাম্পের নাম না নিলেও তার উদ্দেশ্যেই বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিরিয়াস হতে হলে প্রতিদিন আগের দিনের কথার বিপরীত কথা বলা যায় না। সম্ভবত প্রতিদিন কথা বলারও প্রয়োজন নেই।” ম্যাক্রোর মতে, বৈশ্বিক সংকটের সময় রাষ্ট্রপ্রধানদের বক্তব্য হওয়া উচিত স্থির এবং নির্ভরযোগ্য, যা ট্রাম্পের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।

আরও পড়ুন  গাজা যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবে আরব নেতারা

আটলান্টিক তীরের সামরিক জোট ন্যাটো নিয়ে ট্রাম্পের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ফ্রান্সকে ভাবিয়ে তুলছে। ম্যাক্রো বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন সন্দেহ তৈরি হওয়ায় জোটটি দুর্বল হয়ে পড়ছে। আপনি যদি প্রতিদিন আপনার অঙ্গীকার নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেন, তাহলে সেই জোট ভেতর থেকে ফাঁপা হয়ে যায়।” ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, ম্যাক্রোর বক্তব্যে তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।

অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের পর ন্যাটোর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ:
যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে যথেষ্ট প্রতিদান পাচ্ছে না।
ন্যাটো বর্তমানে একটি ‘কাগুজে বাঘ’ বা অকার্যকর জোটে পরিণত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পশ্চিমের দুই প্রধান মিত্র দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এই বাকযুদ্ধ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যে এই দূরত্ব রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষ দেশগুলোকে কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে এবং ন্যাটোর ঐক্যকে দীর্ঘমেয়াদী সংকটে ফেলতে পারে।