ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহে আরও ২ শিশুর মৃত্যু কানাডায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি হিসেবে ডলি বেগমের শপথ ইরান, লেবানন ও ইরাকে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করলো সংযুক্ত আরব আমিরাত লালমনিরহাট সীমান্তে বিষধর সাপ ও কুমির আতঙ্ক, স্থানীয়দের মাঝে ভয় বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন নাকচ; ইরানের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রেরও আপত্তি নেই দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা ৮০ বছর বয়সী নোবেলজয়ী নেত্রীকে নিজ বাসস্থানে স্থানান্তরের ঘোষণা জান্তা সরকারের চুয়াডাঙ্গায় খরগোশ শিকারের অপরাধে চারজনের কারাদণ্ড জ্বালানি সংকট সামাল দিতে অফিস ও মার্কেট বন্ধের নতুন সময় ঘোষণা নিরাপত্তার শঙ্কায় হেলমেট পরে পরীক্ষার হলে জবি শিক্ষার্থীরা

এক কিউআর-এই হবে সব লেনদেন; ৩০ জুনের মধ্যে ‘বাংলা কিউআর’ চালুর ডেডলাইন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 20

ছবি: সংগৃহীত

দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও সর্বজনীন করতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ জুলাই থেকে সব ধরনের মার্চেন্ট পয়েন্টে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের জন্য ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত একটি কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে দেশের সব ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (PSO) তাদের নিজস্ব কিউআর কোড সরিয়ে ‘বাংলা কিউআর’ স্থাপন করতে হবে। এছাড়া:

ইন্টারঅপারেবিলিটি: এক প্রতিষ্ঠানের কিউআর কোড ব্যবহার করে অন্য প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক যেন সহজেই লেনদেন করতে পারেন (আন্তঃলেনদেন সুবিধা), তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রযুক্তিগত সমাধান: কিউআর লেনদেনে বিদ্যমান সকল কারিগরি ত্রুটি উল্লেখিত সময়ের মধ্যে সারিয়ে ফেলতে হবে।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: কোনো মার্চেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআর ব্যতীত অন্য কোনো কিউআর দিয়ে নগদ উত্তোলন (ক্যাশআউট) করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কিউআর সুবিধা বাতিল করা হবে।

আরও পড়ুন  সয়াবিনের সোনালি স্বপ্নে দুলছে লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চল, কম খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষকরা

সম্প্রতি সংবাদপত্রের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছিলেন, সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে অনলাইন লেনদেন বাড়ানোই তার মূল লক্ষ্য। তিনি মনে করেন, ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করা হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও ডিজিটাল পেমেন্টের আওতায় আসবেন, যা অর্থনীতিকে আরও স্বচ্ছ করবে।

বর্তমানে অধিকাংশ ব্যাংক ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করলেও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব কিউআর কোড রয়েছে। সারাদেশে প্রায় ১০ লক্ষাধিক মার্চেন্ট পয়েন্টে থাকা এই নিজস্ব কোডগুলো পরিবর্তন করা সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আয়ের ভাগাভাগি (Revenue Sharing) নিয়ে জটিলতা থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই সমন্বিত কিউআর চালুর বিষয়ে আগ্রহ কম ছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থান এবার সেই বাধা দূর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে একাধিকবার ‘বাংলা কিউআর’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তদারকির অভাব ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তা পূর্ণতা পায়নি। এবার সরাসরি আইনগত ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, ডিজিটাল লেনদেনকে একটি একক ও সর্বজনীন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে তারা বদ্ধপরিকর।

নিউজটি শেয়ার করুন

এক কিউআর-এই হবে সব লেনদেন; ৩০ জুনের মধ্যে ‘বাংলা কিউআর’ চালুর ডেডলাইন

আপডেট সময় ০৫:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও সর্বজনীন করতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ জুলাই থেকে সব ধরনের মার্চেন্ট পয়েন্টে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের জন্য ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত একটি কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে দেশের সব ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (PSO) তাদের নিজস্ব কিউআর কোড সরিয়ে ‘বাংলা কিউআর’ স্থাপন করতে হবে। এছাড়া:

ইন্টারঅপারেবিলিটি: এক প্রতিষ্ঠানের কিউআর কোড ব্যবহার করে অন্য প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক যেন সহজেই লেনদেন করতে পারেন (আন্তঃলেনদেন সুবিধা), তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রযুক্তিগত সমাধান: কিউআর লেনদেনে বিদ্যমান সকল কারিগরি ত্রুটি উল্লেখিত সময়ের মধ্যে সারিয়ে ফেলতে হবে।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: কোনো মার্চেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআর ব্যতীত অন্য কোনো কিউআর দিয়ে নগদ উত্তোলন (ক্যাশআউট) করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কিউআর সুবিধা বাতিল করা হবে।

আরও পড়ুন  দেশের শেয়ারবাজারে উত্থান, আধা ঘণ্টায় লেনদেন ৮৯ কোটি টাকা 

সম্প্রতি সংবাদপত্রের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছিলেন, সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে অনলাইন লেনদেন বাড়ানোই তার মূল লক্ষ্য। তিনি মনে করেন, ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করা হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও ডিজিটাল পেমেন্টের আওতায় আসবেন, যা অর্থনীতিকে আরও স্বচ্ছ করবে।

বর্তমানে অধিকাংশ ব্যাংক ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করলেও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব কিউআর কোড রয়েছে। সারাদেশে প্রায় ১০ লক্ষাধিক মার্চেন্ট পয়েন্টে থাকা এই নিজস্ব কোডগুলো পরিবর্তন করা সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আয়ের ভাগাভাগি (Revenue Sharing) নিয়ে জটিলতা থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই সমন্বিত কিউআর চালুর বিষয়ে আগ্রহ কম ছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থান এবার সেই বাধা দূর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে একাধিকবার ‘বাংলা কিউআর’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তদারকির অভাব ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তা পূর্ণতা পায়নি। এবার সরাসরি আইনগত ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, ডিজিটাল লেনদেনকে একটি একক ও সর্বজনীন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে তারা বদ্ধপরিকর।